Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

সিঙ্গুরের ‘টাটা বিদায়’ অধ্যায় অতীত, স্কুল-কলেজের সিলেবাসে এবার জায়গা পাচ্ছেন শ্যামাপ্রসাদ: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাব্যবস্থায় এক বড়সড় নীতিগত রদবদলের স্পষ্ট বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার মহানগরের মিত্র ইনস্টিটিউশনে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫ তম জন্মজয়ন্তীর বিশেষ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখার সময় তিনি এই বড় ঘোষণাটি করেন। মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানান, স্কুল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় স্তরের পাঠ্যসূচিতে ইতিহাস বিকৃতির দিন শেষ হতে চলেছে।ভবানীপুরের এই অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী পূর্বতন বাম ও তৃণমূল সরকারের শিক্ষানীতিকে তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি দাবি করেন, বিগত শাসকেরা রাজনৈতিক স্বার্থে ইতিহাসের ভুল ব্যাখ্যা তরুণ প্রজন্মের সামনে তুলে ধরেছে। সিঙ্গুর থেকে টাটাদের গাড়ি কারখানা তাড়ানোর ঘটনাকে যেভাবে সিলেবাসে গৌরবান্বিত করা হয়েছিল, তার তীব্র সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, নতুন প্রজন্মকে এই ধরনের নেতিবাচক অধ্যায় পড়ানোর কোনো যৌক্তিকতা নেই। এই কারণে পাঠ্যক্রম থেকে সিঙ্গুরের ওই অংশটি পুরোপুরি বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। তার পরিবর্তে রাজ্যের আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে যুক্ত করা হচ্ছে ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ জাতীয়তাবাদী নেতা ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের জীবন ও কর্মধারা।

নতুন সিলেবাসে মূলত যে বিষয়গুলির ওপর জোর দেওয়া হবে:১৯৪৭ সালের দেশভাগের কঠিন সময়ে ভারতকেশরী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অনবদ্য লড়াই ও পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য গঠনে তাঁর ঐতিহাসিক ভূমিকা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বকনিষ্ঠ উপাচার্য হিসেবে শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর প্রগতিশীল সংস্কারসমূহ।স্বাধীন ভারতের প্রথম শিল্প ও সরবরাহ মন্ত্রী হিসেবে দেশের বুনিয়াদি শিল্পায়নে তাঁর দূরদর্শী চিন্তাভাবনা। ভারতের অখণ্ডতা রক্ষা ও জম্মু-কাশ্মীর ইস্যুতে সংসদ ভবনে তাঁর কালজয়ী নীতি ও আদর্শ।

শিক্ষা সিলেবাসে এই আমূল পরিবর্তনের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী জানান, কলকাতায় ড. মুখোপাধ্যায়ের স্মৃতি রক্ষার্থে ১২৫ ফুট উঁচু একটি বিশাল মূর্তি ও গবেষণাধর্মী লাইব্রেরি তৈরি করা হচ্ছে। যার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন বা ভূমিপূজন করবেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এছাড়া মিত্র ইনস্টিটিউশনের পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বিধায়ক তহবিল থেকে ২৫ লক্ষ টাকা অনুদানের ঘোষণাও করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই পদক্ষেপের ফলে রাজ্যের শিক্ষাক্ষেত্রে এক নতুন জাতীয়তাবাদী আদর্শের সূচনা হতে চলেছে, যা আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে।

Exit mobile version