প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, থানা আক্রমণ কিংবা কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীদের ওপর চড়াও হলে এবার থেকে অপরাধীদের ঘটিবাটি বিক্রি করে ছাড়বে প্রশাসন। আজ, ২৪ আগস্ট ২০২৬ (সোমবার) নবান্নে আয়োজিত এক জরুরি সাংবাদিক বৈঠক থেকে এই সংক্রান্ত চরম নোটিফিকেশন জারির কথা ঘোষণা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, আজ থেকেই রাজ্যজুড়ে এই নতুন ও কঠোর নিয়ম কার্যকর হয়ে গেল।সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, “আজ সোমবার এই সংক্রান্ত সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। এরপর থেকে আন্দোলন বা প্রতিবাদের নামে সরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে, তার আসল দামের ৩ গুণ সুদ-সহ জরিমানা উসুল করা হবে অভিযুক্তের থেকে। পুলিশকে আক্রমণ, থানা বা বিডিও অফিস জ্বালানোর মতো ঘটনা ঘটলে আর রেহাই নেই। বিধানসভায় এই বিল আগেই পাস হয়েছিল, রাজ্যপালও সম্মতি দিয়েছেন।”
রাজ্য সরকারের এই কড়া ‘গুন্ডাদমন’ আইনের অধীনে, সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরকারীদের বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, কোনো অপরাধী যদি এই ৩ গুণ আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিতে ব্যর্থ হয়, তবে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার নিজস্ব সম্পত্তি ও ঘরবাড়ি ক্রোক করে তা নিলাম (Auction) করা হবে এবং সেই অর্থ থেকে ক্ষতিপূরণ উসুল করবে প্রশাসন।
রাজ্য বিধানসভায় আইন-শৃঙ্খলার আমূল পরিবর্তন ঘটাতে এবং আইন অমান্যকারীদের শায়েস্তা করতে গত জুন মাসেই দুটি অত্যন্ত কঠোর বিল পাস করিয়েছিল বর্তমান সরকার, যা আজ থেকে পূর্ণ আইনি রূপ পেল। ১. ওয়েস্ট বেঙ্গল মেইনটেন্যান্স অফ পাবলিক অর্ডার (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬: এই আইনের ফলেই ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের সমস্ত আর্থিক দায় সরাসরি অপরাধী ও উসকানিদাতাদের ওপর বর্তাবে এবং ৩ গুণ জরিমানা ধার্য হবে। ২. ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটিস বিল, ২০২৬: এই আইনের ক্ষমতা বলে সমাজবিরোধী, দাঙ্গাকারী বা আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া ব্যক্তিদের কোনো ট্রায়াল ছাড়াই টানা ১২ মাস পর্যন্ত প্রতিরোধমূলক আটকে (Preventive Detention) রাখা যাবে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, প্রতিবাদের নামে কোনো কলকারখানা বা শিল্প সংস্থা জোর করে বন্ধ করে দেওয়া কিংবা সেখানে ভাঙচুর চালিয়ে রাজ্যের অর্থনৈতিক পরিবেশ নষ্ট করার দিন শেষ। নতুন আইন অনুযায়ী, শিল্প সংস্থায় হামলা চালালে মোটা অঙ্কের জরিমানার পাশাপাশি সরাসরি জেল খাটতে হবে দোষীদের। বাংলায় বিনিয়োগকারীদের মনে আস্থা ফেরাতে এবং করদাতাদের টাকায় তৈরি সরকারি সম্পত্তির পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নেওয়া হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর।
