প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬ সালের ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নবান্নে বসেই রাজ্যের প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক পরিকাঠামোয় বড়সড় সংস্কার শুরু করে দিল নতুন বিজেপি সরকার। এবার পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী ও জাতীয়তাবাদী পদক্ষেপের ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আজ বিধানসভায় দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, আগামী সোমবার (১৮ মে, ২০২৬) থেকে রাজ্যের সমস্ত সরকারি এবং সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত বিদ্যালয়ে প্রার্থনা সঙ্গীত হিসেবে আবশ্যিকভাবে গাওয়া হবে বঙ্কিমচন্দ্রের ‘বন্দে মাতরম’। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই বিষয়ে রাজ্য জুড়ে অভিন্ন নিয়ম চালু করতে খুব দ্রুত নবান্ন থেকে একটি মেগা নির্দেশিকা বা সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হচ্ছে।’
আজ বিধানসভায় প্রবেশের আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে এই নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানান। তিনি বলেন, “আগামী সোমবার থেকেই রাজ্যের সব বিদ্যালয়ে প্রার্থনা সঙ্গীত হচ্ছে ‘বন্দে মাতরম’। আমি আজই নবান্নে গিয়ে এই সংক্রান্ত চূড়ান্ত নির্দেশিকা জারি করার ব্যবস্থা করছি।” শিক্ষা দপ্তর সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণার পরেই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় প্রশাসনিক গাইডলাইন তৈরির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত সরকারি, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত এবং সরকার পোষিত প্রাথমিক, উচ্চ প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এই নিয়ম কার্যকর হবে। বেসরকারি স্কুলগুলোর ক্ষেত্রে এটি সরাসরি বাধ্যতামূলক না করা হলেও, রাজ্যের সংস্কৃতি ও জাতীয়তাবাদী ভাবাবেগকে সম্মান জানিয়ে তাদেরও এই নিয়ম চালুর জন্য সরকারি স্তরে বিশেষ আবেদন জানানো হচ্ছে। প্রতিদিন ক্লাস শুরু হওয়ার ঠিক আগে, সকালের মূল প্রার্থনাসভায় (Morning Assembly) শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং ছাত্র-ছাত্রী—সবাইকে সম্মিলিত কণ্ঠে এই গান গাইতে হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বাংলায় নতুন সরকার গঠনের পর এটি অন্যতম একটি বড় নীতিগত পরিবর্তন। এর আগে পূর্বতন সরকারের আমলে রাজ্যের বিদ্যালয়গুলোতে সকালের প্রার্থনাসভায় রাজ্য সঙ্গীত ‘বাংলার মাটি বাংলার জল’ গাওয়া বাধ্যতামূলক ছিল। নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরই শুভেন্দু অধিকারী সেই নিয়মে বদল এনে জাতীয়তাবাদের আবেগকে স্কুল স্তরে পৌঁছে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন।
বিজেপি ঘনিষ্ঠ মহল এবং সাধারণ নাগরিকদের একটি বড় অংশ সরকারের এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, ছাত্রাবস্থা থেকেই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মনে দেশপ্রেম জাগ্রত করতে এবং বাংলার নিজস্ব মাটির মনীষীদের বন্দনা করতে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা নেবে। আগামী সোমবার থেকেই এই নিয়ম অক্ষরে অক্ষরে পালন করতে স্কুল পরিদর্শক (DI) স্তরে কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলেও নবান্ন সূত্রে খবর।
