প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের সংসদীয় রাজনীতির ইতিহাসে আজ এক অভূতপূর্ব এবং যুগান্তকারী অধ্যায়ের সূচনা হলো। এতদিন বিধানসভার অন্দরে ঠিক কী ঘটছে, কোন জনপ্রতিনিধি জনগণের স্বার্থে সরব হচ্ছেন আর কারা কেবলই হট্টগোল সৃষ্টি করছেন—তার পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাত না। কিন্তু স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতার এক নতুন নজির গড়ে আজ বিধানসভা কক্ষের লাইভ সম্প্রচারের (Live Stream) এক ঐতিহাসিক ঘোষণা করলেন রাজ্যের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
আজ, শুক্রবার নতুন বিধানসভা অধিবেশনের প্রথম দিনেই এই বৈপ্লবিক সিদ্ধান্তের কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। স্পিকার নির্বাচনের পর হাউসে নিজের প্রথম ভাষণ দিতে উঠে তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, নতুন সরকারের আমলে কোনো গোপনীয়তার স্থান থাকবে না। প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের কাজের প্রতিটি মুহূর্ত সাধারণ মানুষের আতশকাচের নিচে থাকবে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তাঁর ভাষণে বলেন, রাজ্যবাসী তাঁদের মূল্যবান ভোট দিয়ে বিধায়কদের বিধানসভায় পাঠান। তাই তাঁদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা হাউসের ভেতরে কী ভূমিকা পালন করছেন, তা সরাসরি দেখার পূর্ণ অধিকার সাধারণ মানুষের রয়েছে। লাইভ স্ট্রিমিং চালু হওয়ার ফলে রাজ্য রাজনীতিতে এক নতুন স্বচ্ছতার যুগ শুরু হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই সিদ্ধান্তের ফলে বিধানসভার গরিমা যেমন বৃদ্ধি পাবে, তেমনই কক্ষের ভেতরে ভাষা ব্যবহারে শালীনতা রক্ষা এবং গঠনমূলক আলোচনা বজায় রাখতে বাধ্য থাকবেন সমস্ত শিবিরের বিধায়করা।
বিজেপি ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী প্রমাণ করে দিলেন যে তাঁর সরকার সততা এবং আমজনতার প্রতি দায়বদ্ধতাকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে। কোনো রকম রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি নয়, বরং সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক উপায়ে এবং সবার সামনে রাজ্য পরিচালনার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন তিনি। বিরোধীদের কার্যপদ্ধতি এবং সরকারের সদর্থক ভূমিকা—সবটাই এবার হাতের মুঠোয় দেখতে পাবেন বাংলার কোটি কোটি মানুষ। খুব দ্রুত এই লাইভ সম্প্রচারের জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি পরিকাঠামো প্রস্তুত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
