প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-“খুনের কড়া শাস্তি হবেই! দরকারে অভিযুক্তদের পাতাল থেকে খুঁজে বের করে গ্রেফতার করতে হবে। পুলিশমন্ত্রী হিসেবে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে বোঝাতে হবে যে আইন হাতে তুলে নিয়ে যা খুশি করা যাবে না।” হাওড়ার বাগনানে নিহত বিজেপি কর্মী প্রশান্ত দে-র বাড়িতে গিয়ে শনিবার বিকেলে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই ভাষাতেই চরম হুঁশিয়ারি দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
গত ১৭ জুন বাগনানের সন্তোষপুর এলাকায় দুষ্কৃতীদের হাতে নৃশংসভাবে খুন হন বিজেপি কর্মী তথা বুথ সহ-সভাপতি প্রশান্ত দে (৩৯)। এই ঘটনার পর থেকেই উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে স্থানীয় রাজনীতি। আজ বিকেলে শান্তিকুঞ্জ থেকে রওনা দিয়ে বিকেল ৫ টা নাগাদ সরাসরি বাগনানে নিহতের বাড়িতে পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে প্রশান্ত দে-র প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করার পর তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের পাশে থাকার সম্পূর্ণ আশ্বাস দেন। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহতের পরিবার ও সন্তানরা, তাঁরা দোষীদের ফাঁসির দাবি জানান।
পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী ও পুলিশমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, “প্রশান্ত খুনের খবর পেয়ে শুরু থেকেই আমি নিজে পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছিলাম। দ্রুত সিট (SIT) তৈরি করে তদন্ত শুরু করা হয়। এই ঘটনায় মোট ৫১ জনের নামে এফআইআর (FIR) হয়েছিল, যার মধ্যে এখনও পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।” তবে মূল অভিযুক্তদের অনেকেই এখনও পলাতক থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।
সেই প্রসঙ্গে পুলিশ প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, “আমি জেলার এসপি-কে (SP) স্পষ্ট বলে দিয়েছি, বাকি অভিযুক্তদের দরকারে পাতাল থেকে তুলে এনে গ্রেফতার করতে হবে। পুলিশমন্ত্রী হিসেবে এটা আমার দায়িত্ব এবং রাজধর্ম।” তিনি আরও যোগ করেন যে, রাজ্যে এখন ‘শাসকের আইন’ শেষ হয়ে প্রকৃত ‘আইনের শাসন’ প্রতিষ্ঠা হয়েছে এবং কোনো অপরাধীকে রেয়াত করা হবে না।
মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরের পর এবং অপরাধীদের পাতাল থেকে খুঁজে বের করার এই কড়া বার্তার পর বাগনানের রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনও বাকি আসামিদের খোঁজে তল্লাশি আরও জোরদার করেছে।
