প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-নন্দীগ্রামে নিজের প্রার্থী প্রত্যাহার করার পর কংগ্রেসের মিলন প্রধানকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক সমর্থন এবং তার পরেই মিলন প্রধানের গ্রেফতারি—এই জোড়া ঘটনায় তোলপাড় রাজ্যের রাজনীতি। আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে বিরোধী মহাজোটের ধাক্কায় শাসকদল কিছুটা চাপে, কিন্তু শুভেন্দু অধিকারীর গড় হিসেবে পরিচিত নন্দীগ্রামের অন্দরমহলের খবর সম্পূর্ণ অন্য কথা বলছে। মিলন-মমতা অক্ষকে মাঠেই পিষে দিতে ভেতরে ভেতরে এক অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও মারাত্মক কাউন্টার স্ট্র্যাটেজি (Counter Strategy) বা পাল্টা চাল চালতে শুরু করেছে পদ্ম শিবির।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, মমতা ও কংগ্রেস হাত মেলানোয় শুভেন্দু-বিরোধী ভোট এককাট্টা হওয়ার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে, তাকে রুখতে বিজেপি পাল্টা মেরুকরণের অঙ্ক কষছে। নন্দীগ্রামের ভোটার বিন্যাসে একটি বড় অংশ সংখ্যালঘু এবং একটি বড় অংশ সংখ্যাগরিষ্ঠ হিন্দু সম্প্রদায়ের। বিজেপি নিচুতলার প্রচার শুরু করেছে যে, এই জোট আসলে একটি নির্দিষ্ট ভোটব্যাঙ্ককে তুষ্ট করার জন্য দিল্লির লাইনে তৈরি হয়েছে। বিরোধী ভোট একজোট হলে শুভেন্দু অধিকারী নিজের দিকে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটকে আরও বেশি এককাট্টা (Consolidate) করার কৌশল নিয়েছেন, যা অতীতেও নন্দীগ্রামে সফল হয়েছে।
মমতার সমর্থনের পর প্রাক্তন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর রঞ্জন চৌধুরী যেভাবে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন, তাকেই এখন রাজনৈতিক হাতিয়ার করছে বিজেপি। শুভেন্দু শিবিরের আইটি সেল ও স্থানীয় কর্মীরা বুথ স্তরে প্রচার করছেন যে, “যে তৃণমূলের বিরুদ্ধে লড়ে কংগ্রেস কর্মীরা মার খেলেন, আজ দিদি সেই কংগ্রেসকেই গিলে খেতে চাইছেন।” কংগ্রেসের কট্টর মমতাবিরোধী ভোটার ও কর্মীদের ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে তাঁদের ভোট যাতে ইভিএমে পদ্ম চিহ্নে পড়ে (Cross-voting), তার জন্য নিচুতলার নেতাদের বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী।
২০০৭ সালের পুরনো মামলায় মিলন প্রধানকে গ্রেফতার করার পর বিরোধী শিবির যখন ময়দানে নামার চেষ্টা করছে, তখন শুভেন্দু শিবিরের পরিকল্পনা হলো আইনি লড়াইয়ে মিলন প্রধানকে ব্যস্ত রাখা। প্রার্থী নিজেই যদি আইনি জটে আটকে থাকেন, তবে তাঁর হয়ে প্রচার করার মতো মজবুত সাংগঠনিক পরিকাঠামো এই মুহূর্তে নন্দীগ্রামে কংগ্রেস বা মমতাপন্থী শিবিরের নেই। এই সাংগঠনিক শূন্যতার (Organizational Vacuum) সুযোগ নিয়ে প্রতিটা বুথে বিজেপির কর্মীরা কার্যত ওয়ান-ওয়ে প্রচার শুরু করে দিয়েছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাহুল গান্ধীর দিল্লির অঙ্ককে শুভেন্দু অধিকারী নন্দীগ্রামের মাটির রিয়্যালিটি দিয়ে জবাব দিতে চলেছেন। একদিকে অধীর চৌধুরীর ক্ষোভকে উসকে দেওয়া, অন্যদিকে বুথ স্তরে মেরুকরণের হাওয়াকে আরও চাঙ্গা করা—শুভেন্দুর এই নিঃশব্দ কাউন্টার স্ট্র্যাটেজি দিল্লির ‘ইন্ডিয়া’ মডেলকে নন্দীগ্রামের মাটিতেই গোল খাওয়াতে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার।
