Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

দিল্লির বঙ্গভবনে শুভেন্দুর মহা-রদবদল ছক! ৪২ থেকে বেড়ে ৬৩ হচ্ছে বাংলার লোকসভা আসন! সুদীপ-কাকলিদের বড় টোপ মুখ্যমন্ত্রীর?

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-৪২-এ আর আটকে থাকছে না বাংলা! দেশের সংসদীয় মানচিত্রে এবার এক নজিরবিহীন ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক বিস্ফোরণ ঘটতে চলেছে! দিল্লির বঙ্গভবনে তৃণমূলত্যাগী ২২ জন সাংসদের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সেই রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর এবার সামনে এলো এক পরম চাঞ্চল্যকর এবং বিস্ফোরক তথ্য। এনসিপিআই (NCPI) দলীয় সূত্রের খবর, বৈঠকে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, কাকলি ঘোষ দস্তিদার ও সায়নী ঘোষদের সামনে মুখ্যমন্ত্রী এক মস্ত বড় রাজনৈতিক তাস খেলেছেন। কেন্দ্রের সবুজ সংকেত মিললে, আগামী আসন পুনর্বিন্যাসের (Delimitation) পর পশ্চিমবঙ্গের লোকসভা আসন সংখ্যা ৪২ থেকে বাড়িয়ে একলাফে ৬৩টি করা হবে! অর্থাৎ রাজ্যে সরাসরি ২১টি আসন বৃদ্ধি পেতে চলেছে! আর এই আসন বৃদ্ধির ফর্মুলা সামনে রেখেই দলত্যাগী সাংসদদের ভবিষ্যৎ আসন এবং টিকিট নিয়ে তৈরি হওয়া সমস্ত সংশয় এক ঝটকায় উড়িয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

ঘটনার প্রেক্ষাপট কিন্তু আকস্মিক নয়। এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ খোদ সংসদের মেঝেতে দাঁড়িয়েই স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, নতুন সংসদ ভবন তৈরির অন্যতম মূল কারণই হলো দেশজুড়ে লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়ানো। জনসংখ্যা ও ভৌগোলিক পরিকাঠামোর ওপর ভিত্তি করে ২০২৬ সালের পর দেশজুড়ে যে আসন পুনর্বিন্যাস বা ডিলিমিটেশন হতে চলেছে, তারই ব্লু-প্রিন্ট এবার বঙ্গভবনের বৈঠকে সুদীপ-কাকলিদের সামনে মেলে ধরেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

তৃণমূল কংগ্রেসের টিকিটে জেতার পর, দল ছেড়ে এনসিপিআই (NCPI) ক্যাম্পে আসা এই ২২ জন সাংসদের মনের ভেতর একটা বড় ভয় কাজ করছিল—আগামী নির্বাচনে বিজেপি কি তাঁদের সবাইকে টিকিট দেবে? নাকি তাঁদের আসনগুলি পুরনো বিজেপি নেতাদের ছেড়ে দিতে হবে? ঠিক এই নার্ভাস পয়েন্টেই আঘাত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এনসিপিআই (NCPI) সূত্রের দাবি, শুভেন্দু অধিকারী তাঁদের স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “রাজ্যে যখন একলাফে ২১টি লোকসভা আসন বাড়বে, তখন আসন ভাগাভাগি নিয়ে আর কোনও লড়াই থাকবে না। যাঁরা তৃণমূল ছেড়ে নতুন প্ল্যাটফর্মে এসেছেন, তাঁদের নিজেদের চেনা জমিতে বা নতুন পুনর্বিন্যাস হওয়া আসনে ভোটে লড়তে বিন্দুমাত্র অসুবিধা হবে না। কেন্দ্র থেকে এই আসন বৃদ্ধির স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি মিলেছে।”

রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ৬৩ আসনের অঙ্ক যদি সত্যিই বাস্তবায়িত হয়, তবে তা বাংলার রাজনীতিতে তৃণমূলের জন্য হবে মরণ কামড়। এমনিতেই ২০ জন লোকসভা সাংসদ দল ছাড়ায় সংসদে তৃণমূলের শক্তি অর্ধেক হয়ে গিয়েছে। তার ওপর যদি আরও ২১টি নতুন আসন তৈরি হয় এবং তার সিংহভাগেই শুভেন্দু অধিকারীর রণকৌশলে এনসিপিআই বা বিজেপি প্রার্থীরা জেতেন, তবে জাতীয় রাজনীতিতে বাংলার রাশ সম্পূর্ণ চলে যাবে নতুন বিজেপি সরকারের হাতেই।শুভেন্দু অধিকারীর এই ‘৬৩ আসনের মেগা টোপ’ কি তবে দলত্যাগী সাংসদদের পুরোপুরি নিজেদের পকেটে পুরে রাখার এক মাস্টারস্ট্রোক? নাকি ২০২৬-এর ডিলিমিটেশনের হাত ধরে বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্রটাই চিরতরে বদলে দেওয়ার এক পরিকল্পিত স্ক্রিপ্ট? দিল্লির অলিন্দ থেকে কলকাতার রাজপথ—আজ সর্বত্রই ঘুরপাক খাচ্ছে এই একটিই প্রশ্ন।

Exit mobile version