প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যে বিপুল কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নের লক্ষ্যে এক বড়সড় পদক্ষেপ নিল নতুন সরকার। হুগলির ডানকুনিতে বিখ্যাত হোসিয়ারি প্রস্তুতকারক ব্র্যান্ড ‘লাক্স কোজি’-র দ্বিতীয় ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিটের শিলান্যাস করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গতকাল এই মেগা অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, গুজরাত, উত্তরপ্রদেশ কিংবা মহারাষ্ট্রের মতো এবার বাংলাতেও বইবে বিনিয়োগের জোয়ার। কেন্দ্রে ও রাজ্যে একই দলের সরকার অর্থাৎ ‘ডবল ইঞ্জিন’ প্রশাসনের আসল সুফল এবার পেতে চলেছেন বাংলার সাধারণ মানুষ।এদিনের অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের একটি রূপরেখা পেশ করেন। তিনি বলেন, বিগত দিনের জট কাটিয়ে বাংলায় এখন লগ্নির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বেকার যুবকদের চাকরি দেওয়া, কৃষকদের আর্থিক স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থার খোলনলচে বদলে ফেলাই এই সরকারের মূল লক্ষ্য।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর ভাষণে দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গ শিল্প ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে পিছিয়ে পড়েছিল। কিন্তু এখন আর সেই দিন নেই। ভারতের অন্যান্য উন্নত রাজ্যের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, “গুজরাত বা মহারাষ্ট্রে যেভাবে ঝাঁকে ঝাঁকে শিল্প গড়ে উঠছে, ডবল ইঞ্জিন সরকারের হাত ধরে এবার বাংলাতেও ঠিক সেই মডেলেই উন্নয়ন হবে।” ডানকুনির এই নতুন প্রকল্পটির মাধ্যমে রাজ্যে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ আসতে চলেছে, যা আগামী দিনে বাংলার অর্থনৈতিক মানচিত্রকে বদলে দেবে বলে আশাপ্রকাশ করেন তিনি।
রাজ্যে বেকারত্ব দূরীকরণ প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী এক অভিনব ফর্মুলা তুলে ধরেন। তিনি জানান, শুধু সরকারি পদের ভরসায় বসে থাকলে রাজ্যের সব বেকার যুবকের হিল্লে করা সম্ভব নয়। সেই কারণে তাঁর সরকার ‘ত্রিস্তরীয় কর্মসংস্থান’ নীতি নিয়ে কাজ করছে। এর প্রথম স্তরে থাকবে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে সরকারি চাকরি প্রদান, যার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে। দ্বিতীয় স্তরে থাকবে লাক্স কোজির মতো বড় বড় বেসরকারি সংস্থায় কর্মসংস্থান এবং তৃতীয় স্তরে থাকবে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্পের মাধ্যমে যুবকদের স্বনির্ভর করে তোলা।
ডানকুনির এই একক প্রকল্প থেকেই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৯,০০০ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে। বিনিয়োগের এই নতুন আবহে ভিনরাজ্যে কাজ করতে যাওয়া পরিযায়ী শ্রমিকদেরও ধীরে ধীরে রাজ্যে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে মুখ্যমন্ত্রী আশা ব্যক্ত করেন। এদিনের অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট শিল্পগোষ্ঠীর শীর্ষ কর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
