প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-তারাতলায় নির্মীয়মাণ গোডাউন ধসে ৯ জনের মৃত্যুর ঘটনার পর আজ বিধানসভায় দাঁড়িয়ে কলকাতা পুরসভার অন্দরের দুর্নীতি নিয়ে এক বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বাজেট অধিবেশনের মাঝেই প্রাক্তন পুর-প্রশাসন ও তৃণমূল (TMC) শিবিরকে নজিরবিহীন ভাষায় আক্রমণ করে তিনি দাবি করেন, কলকাতা কর্পোরেশনের রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে রয়েছে কাটমানি সংস্কৃতি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “কলকাতা পুরসভায় ‘কালী’ (ঘুষের সাংকেতিক নাম) না দিলে কোনও ফাইলের সই হত না, কোনও বেআইনি প্ল্যান পাস হতো না।”
আজ বেলা ১১টায় বিধানসভার অধিবেশনে বক্তব্য রাখার সময় মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি তোপ দাগেন প্রাক্তন পুর-প্রশাসনের শীর্ষকর্তা এবং ক্যামাক স্ট্রিটের একটি বিশেষ প্রভাবশালী মহলের দিকে। তিনি অভিযোগ করেন, নিয়মনীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে, যত্রতত্র জলাশয় ভরাট করে টাকার বিনিময়ে ত্রুটিপূর্ণ বাণিজ্যিক নকশার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বিগত দিনে। মোটা অঙ্কের টাকার খেলা চলেছে বলেই শহরের বুকে আজ একের পর এক বহুতল ও গোডাউন সাধারণ মানুষের জন্য ‘মৃত্যুফাঁদ’ হয়ে উঠেছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, এই অন্যায়ের দায় পূর্বতন শাসক দল কোনোভাবেই এড়াতে পারে না।
মুখ্যমন্ত্রীর এই “কালী” বা ঘুষের বিস্ফোরক মন্তব্য ঘিরে আজ বিধানসভা কক্ষের ভেতরে তুমুল শোরগোল ও হইহট্টগোল শুরু হয়। বিরোধী বেঞ্চের সদস্যরা এই মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং ওয়েলে নেমে বিক্ষোভ দেখানোর চেষ্টা করেন। তবে শুভেন্দু অধিকারী তাঁর দাবিতে অনড় থেকে সাফ জানিয়ে দেন, কলকাতা পুরসভার ইঞ্জিনিয়ার থেকে শুরু করে প্রাক্তন আধিকারিক—যাঁদের সই বা যোগসাজশে এই সমস্ত ত্রুটিপূর্ণ নকশা পাস হয়েছে, তাঁদের প্রত্যেককে চিহ্নিত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দুর্নীতি করে পার পাওয়ার দিন শেষ বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
