প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো এবং সরকারি হাসপাতালগুলির অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থার এক চরম ও চাঞ্চল্যকর খতিয়ান জনসমক্ষে নিয়ে এলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আজ মালদা জেলার প্রশাসনিক পরিদর্শনের মঞ্চ থেকে বিগত সরকারের আমলের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার কঙ্কালসার চেহারাটি তথ্যসহ তুলে ধরেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত ক্ষোভের সাথে জানান যে, সরকারি হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসাধীন রোগীদের পুষ্টিকর আহার দেওয়ার নামে বিগত জমানায় চরম অমানবিক মস্করা করা হতো। তিনি সরকারি নথির তথ্য পেশ করে দাবি করেন, হাসপাতালে ভর্তি থাকা একজন রোগীর ৩ বেলার খাবারের জন্য বরাদ্দ রেট ছিল মাত্র ৫৬ টাকা ২৫ পয়সা! মুখ্যমন্ত্রীর এই বিস্ফোরক তথ্য ফাঁসের পর রাজ্যজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে। সাধারণ মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই সরকারি হাসপাতালের ইনডোর রোগীদের দেওয়া ডাল-ভাতের গুণমান নিয়ে বিস্তর অভিযোগ করে আসছিলেন। আজ শুভেন্দু অধিকারী তার কারণ স্পষ্ট করে দিয়ে জানান, প্রাতরাশ, মধ্যাহ্নভোজন এবং নৈশভোজ মিলিয়ে যেখানে সাকুল্যে ৬০ টাকাও বরাদ্দ করা হতো না, সেখানে রোগীদের পুষ্টিকর বা উন্নতমানের খাবার দেওয়া কীভাবে সম্ভব! এই নামমাত্র বরাদ্দের পেছনে বড়সড় কোনো আর্থিক নয়ছয় বা দুর্নীতির যোগ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখার ইঙ্গিতও মিলেছে প্রশাসনের শীর্ষ স্তর থেকে।
এই চরম অব্যবস্থার অবসান ঘটাতে বর্তমান সরকার যে অত্যন্ত কড়া ও সংবেদনশীল পদক্ষেপ নিতে চলেছে, তা আজ স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নবান্ন সূত্রে খবর, রাজ্যের সমস্ত সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীদের পুষ্টিকর, পরিচ্ছন্ন ও সুষম আহার নিশ্চিত করতে একটি উচ্চপর্যায়ের মেডিকেল ডায়েট কমিটি গঠন করা হচ্ছে। বর্তমান বাজারদরের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এই ৩ বেলার খাবারের সরকারি বরাদ্দের হার এক ধাক্কায় বহুগুণ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর ক্যাবিনেট।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, সরকারি হাসপাতালে সাধারণ ও দরিদ্র মানুষ চিকিৎসার জন্য আসেন। তাঁদের স্বাস্থ্যের সাথে কোনো রকম আপস বরদাস্ত করবে না নতুন প্রশাসন। পূর্বতন জমানার এই ‘৫৬ টাকার খাবারের মডেল’ বদলে দিয়ে খুব শীঘ্রই প্রতিটি হাসপাতালে উন্নত ও আধুনিক ক্যাটারিং পরিকাঠামো চালু করার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করছে স্বাস্থ্য দপ্তর।
