প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দীর্ঘ ১৫ বছরের পূর্বতন জমানার অবসান ঘটিয়ে বাংলায় এখন পরিবর্তনের নতুন সূর্য। বিধানসভা নির্বাচনে রেকর্ড মার্জিনে পদ্ম ফুটিয়ে ফলতার মানুষ যেভাবে নতুন ইতিহাস তৈরি করেছেন, আজ এখানকার শ্রীনাথ ইনস্টিটিউশনের মাঠে আয়োজিত সরকারি জনকল্যাণ শিবিরের উপচে পড়া ভিড় তারই সগর্ব প্রমাণ। আর এই ফলতার মাটি থেকেই আজ বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক ভিত কাঁপিয়ে দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, আগামী ২২ জুন বিধানসভায় অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত যে ঐতিহাসিক বাজেট পেশ করতে চলেছেন, তা কেবল একটি আর্থিক খতিয়ান নয়, বরং বাংলাকে অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর করার এক যুগান্তকারী ব্লু-প্রিন্ট।
বিগত দেড় দশক ধরে যারা বাংলায় নিয়োগ দুর্নীতি ও থ্রেট কালচার চালিয়ে সাধারণ মানুষকে বঞ্চিত করে রেখেছিল, ফলতা থেকে আজ তাদের বিরুদ্ধে কড়া প্রশাসনিক বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ফলতায় পূর্বতন জমানার মাফিয়া রাজের প্রসঙ্গ টেনে তিনি সাফ জানিয়ে দেন, “যত বড় মাফিয়াই হোক না কেন, বাংলায় এখন আইনের শাসন সুপ্রতিষ্ঠিত। এই সরকার কোনো পরিবারতন্ত্র বা তোষণ-রাজনীতি করতে আসেনি, এসেছে সাধারণ মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিতে।” বিপুল জনস্রোতের কথা মাথায় রেখে ফলতার এই বিশেষ জনকল্যাণ শিবিরের মেয়াদ আরও একদিন, অর্থাৎ ১৮ জুন পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
রাজনৈতিক মহলের ধারণা, ২২ জুনের বাজেটে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এমন কিছু বড় ঘোষণা করতে চলেছেন, যা বিরোধীদের রাজনৈতিক জমি সম্পূর্ণ কেড়ে নেবে। নবান্ন এবং বিধানসভা সূত্রে যে ইঙ্গিতগুলি মিলছে, তা হলো, চাকরি চুরির অন্ধকার অধ্যায় মুছে দিয়ে শিক্ষিত যুবসমাজের জন্য সম্পূর্ণ স্বচ্ছ নিয়োগের ঘোষণা থাকছে। সেই সঙ্গে রাজ্যে বিপুল বিনিয়োগ টানতে একটি যুগান্তকারী ‘নতুন শিল্প ও সহজ জমি অধিগ্রহণ নীতি’ ঘোষণা করতে চলেছে নতুন সরকার।রাজ্যের অর্থনৈতিক খোলনলচে বদলে দিতে এই মেগা বাজেটে পূর্ব মেদিনীপুরের দাদনপাত্রবাড়ে গভীর সমুদ্রবন্দরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এবং বড়সড় আর্থিক বরাদ্দের চমক থাকতে পারে। পূর্বতন সরকারের আমলে বঞ্চনার শিকার হওয়া রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের ক্ষোভ প্রশমনে ২২ জুনের বাজেটে মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ নিয়ে বড়সড় সুরাহা ও সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী পরিষ্কার করে দিয়েছেন, নতুন ‘অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার’ (সাবেক লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পরিমার্জিত রূপ)-এর টাকা আগামী ১ জুলাই সরাসরি সমস্ত যোগ্য উপভোক্তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ঢুকবে। তবে তৃণমূল জমানার মতো কোনো দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না এবং এর জন্য কোনো মধ্যসত্বভোগীকে এক টাকাও দিতে হবে না।
বিগত ১৫ বছরের অন্ধকার কাটিয়ে নতুন বিজেপি সরকারের এই প্রথম বাজেটকে ঘিরে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশার পারদ এখন তুঙ্গে। ফলতার মাটি থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই বক্তব্য প্রমাণ করে, নতুন সরকার সস্তা তোষণে নয়, বরং যুবকদের হাতে কাজ, কৃষকদের ফসলের সঠিক দাম এবং রাজ্যের পরিকাঠামোগত উন্নয়নে বিশ্বাসী। ২২ জুনের এই মেগা বাজেটই ঠিক করে দেবে আগামী দিনে প্রকৃত ‘সোনার বাংলা’ গড়ার গতিপথ। এবার শুরু হচ্ছে নতুন ভোরের পথচলা।
