প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-সরকারি কোষাগার কি কোনো সস্তা জনমোহিনী রাজনীতির চারণভূমি, নাকি জনগণের কষ্টের ট্যাক্সের টাকায় তৈরি রাজ্যের সম্পদ? রাজ্যে ঐতিহাসিক পালাবদলের পর নবান্নে বসে এই মৌলিক প্রশ্নটিই তুলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নিউটাউনের এক অনুষ্ঠান থেকে দুর্গাপূজার অনুদান দেওয়ার ক্ষেত্রে পূর্বতন জমানার ঢালাও খয়রাতি নীতিতে বড়সড় বদল ও কাটছাঁটের স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন তিনি। সাফ কথা, এবার আর নির্বিচারে সবার পকেটে সরকারি টাকা যাবে না। মুখ্যমন্ত্রীর এই নীতিগত সিদ্ধান্তের পর তথাকথিত কিছু কায়েমী স্বার্থান্বেষী মহলে শোরগোল পড়তে পারে, কিন্তু প্রশাসনের এই দূরদর্শী পদক্ষেপের পক্ষে যে যুক্তিগুলো রয়েছে, তা এককথায় অকাট্য।
বিগত বছরগুলোতে আমরা দেখেছি, রাজ্যের নানাবিধ আর্থিক সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও স্রেফ হাততালি কুড়ানোর জন্য প্রতি পুজো কমিটিকে ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকা করে পাইকারি হারে বিলিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আইনি ও অর্থনৈতিক নীতি বলে, সরকারি অর্থের বণ্টন সবসময় যৌক্তিক ও জনস্বার্থে হতে হবে। যে পুজো কমিটির বাজেট কোটি টাকা, যাদের মণ্ডপে কর্পোরেট স্পনসরের ছড়াছড়ি—তাদের কেন আমজনতার কষ্টের টাকা দিয়ে পুষ্ট করতে হবে? শুভেন্দু সরকার ঠিক এই প্রশাসনিক ত্রুটিটিকেই সংশোধন করছেন। এটা কোনো খয়রাতির মঞ্চ নয়, এটা সুশাসনের নীতি। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন, পুজো কমিটিগুলোর আর্থিক পরিস্থিতি ও পরিকাঠামো কঠোরভাবে পর্যালোচনা করা হবে। যে সমস্ত ছোট বা পিছিয়ে পড়া পুজো কমিটি সত্যিই আর্থিক সংকটে ভোগে এবং এই সরকারি সাহায্যের ওপর নির্ভর করে, অনুদান শুধু তাদেরই দেওয়া হবে। একেই বলে প্রকৃত সামাজিক পরিকাঠামো এবং সুষম বণ্টন। বড়লোকদের সরকারি টাকা পাইয়ে দেওয়ার চেয়ে, বঞ্চিতদের পাশে দাঁড়ানোই তো আসল রাজধর্ম।
একটা রাজ্যের সরকারি হাসপাতালের আধুনিকীকরণ, গ্রামীণ রাস্তার সংস্কার এবং যুবকদের কর্মসংস্থানের পরিকাঠামো গড়া যেখানে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হওয়া উচিত, সেখানে কোটিপতি ক্লাবগুলোকে লাখ লাখ টাকা অনুদান দেওয়া কোনো দূরদর্শী অর্থনৈতিক নীতি হতে পারে না। বর্তমান প্রশাসন বুঝতে পেরেছে যে, উৎসবের আলো অবশ্যই জ্বলবে, কিন্তু তা যেন রাজ্যের পরিকাঠামোকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে না দেয়।
আজ যারা এই সিদ্ধান্তের আইনি বা রাজনৈতিক বিরোধিতা করার চেষ্টা করছেন, তাদের উদ্দেশ্যে প্রশ্ন—জনগণের ট্যাক্সের টাকা বাঁচানো কি কোনো অপরাধ? বড় পুজো কমিটিগুলো কি স্বাবলম্বী হতে পারে না? নাকি সরকারি আনুকূল্য পাওয়ার চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত হাতছাড়া হওয়ায় কিছু মহলের গায়ে ছ্যাঁকা লেগেছে? তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক সেরে খুব শীঘ্রই এই নতুন নীতিতে সিলমোহর দিতে চলেছে মন্ত্রিসভা। বর্তমান সরকার কোনো সস্তা আবেগে ভেসে নয়, বরং প্রশাসনিক সততা এবং অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নিচ্ছে। ঢালাও খয়রাতির অস্বচ্ছ সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে এই রেশনাল সিদ্ধান্তকে তাই পশ্চিমবঙ্গের শুভবুদ্ধিসম্পন্ন প্রতিটি নাগরিক স্বাগত জানাতে বাধ্য।
