প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রবিবারের ছুটির দিনেও নেই বিশ্রামের লেশমাত্র। কাঁথির বাড়ি থেকে কলকাতায় পা রাখতেই চরম প্রশাসনিক তৎপরতা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর। কোনো প্রথাগত সরকারি ভবন বা নবান্ন নয়, সোজা তিনি পৌঁছে গেলেন ময়দানের PWD টেন্টে। আর সেখানে পা রাখতেই শুরু হলো এক রুদ্ধদ্বার ম্যারাথন বৈঠক। ডাক পড়ল রাজ্যের একবারে শীর্ষস্তরের আমলা ও পুলিশ কর্তাদের। আচমকা ছুটির দিনে ময়দানের এই অস্থায়ী টেন্টে আড়াই ঘণ্টার এই হাই-প্রোফাইল বৈঠককে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতি ও প্রশাসনিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, কোন বড় পদক্ষেপের ছক কষতেই এই জরুরি তলব?
মুখ্যমন্ত্রীর জরুরি ডাকে রবিবার বিকেলেই ময়দানের PWD টেন্টে এসে পৌঁছান রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজি (DGP) এবং কলকাতার পুলিশ কমিশনার (CP)। সূত্রের খবর, দীর্ঘ প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে চলে এই বৈঠক। বৈঠক শেষে যখন মুখ্যমন্ত্রী বের হন, তখন তাঁর মুখে ছিল চরম গাম্ভীর্য। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হলেও কোনো মন্তব্য না করেই তিনি এলাকা ছাড়েন। আর মুখ্যমন্ত্রীর এই রহস্যময় নীরবতাই জল্পনার পারদ আরও কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
নবান্ন ও রাজনৈতিক অলিন্দের সূত্র মারফত যা খবর পাওয়া যাচ্ছে, তার পেছনে লুকিয়ে রয়েছে দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ। সোমবার থেকেই রাজ্য বিধানসভায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিল পেশ হতে চলেছে। যার মধ্যে অন্যতম হলো অপরাধ ও সমাজবিরোধী কার্যকলাপ রুখতে অত্যন্ত কড়া ‘অ্যান্টি-গুন্ডা বিল’ (Anti-Goonda Bill)। এই বিলগুলি পেশ করার আগে আইনি বা প্রশাসনিক কোনো ফাঁকফোকর যাতে না থাকে, তার ব্লু-প্রিন্ট চূড়ান্ত করতেই কি এই ম্যারাথন বৈঠক? সম্প্রতি তারাতলায় নির্মাণাধীন গুদাম ভেঙে পড়ার (Taratala Warehouse Collapse) ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত ক্ষুব্ধ। ইতিমধ্যেই কলকাতা, দক্ষিণ দমদম, কামারহাটি ও বরানগরের মতো এলাকায় ১ মাসের জন্য নির্দিষ্ট কিছু নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ এই উদ্ধারকাজের শেষ মুহূর্তের অগ্রগতি এবং দোষী নির্মাণকারী সংস্থাকে সম্পূর্ণ ‘ব্ল্যাকলিস্ট’ করার বিষয়ে পুলিশ কমিশনার ও ডিজির কাছ থেকে চূড়ান্ত অ্যাকশন রিপোর্ট নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
ছুটির দিনেও কাঁথির বাড়ি থেকে ফিরেই যেভাবে মুখ্যমন্ত্রী ‘২৪/৭ অন-ডিউটি’ মোডে প্রশাসনকে সটান ময়দানে নামিয়ে দিলেন, তা আমলাতন্ত্রের কাছেও এক বিরাট বার্তা। তবে এই আড়াই ঘণ্টার রুদ্ধদ্বার বৈঠকের আসল নির্যাস আগামী দিনগুলিতে রাজ্যে কী বড়সড় পরিবর্তন বা আইনি কড়াকড়ি নিয়ে আসে, এখন সেটাই দেখার।
