প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নির্বাচন-পরবর্তী অশান্তি এবং ঘরছাড়াদের পুনর্বাসনের মত স্পর্শকাতর ইস্যু নিয়ে আজ এক যুগান্তকারী ও ঐতিহাসিক মোড় দেখল রাজ্য বিধানসভা। বিধানসভার অন্দরে দাঁড়িয়ে আজ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং হিংসা কবলিত মানুষদের নিজের ভিটেমাটিতে সসম্মানে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রশ্নে এক অনমনীয় ও ন্যায়পরায়ণ অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছেন। শুক্রবার বিধানসভা অধিবেশন চলাকালীন বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর এক তীব্র অথচ সংসদীয় নীতি মেনে জোরদার সওয়াল-জবাব তৈরি হয়। নির্বাচন-পরবর্তী অশান্তি এবং রাজনৈতিক কারণে ঘরছাড়া সাধারণ মানুষের প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। এই বিষয়ে অত্যন্ত ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একটি বড় এবং অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ শর্তের কথা ঘোষণা করেন।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে জানান যে, তাঁর সরকার রাজ্যের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে সম্পূর্ণ দায়বদ্ধ। ঘরছাড়াদের ঘরে ফেরানোর বিষয়ে আশ্বাস দিয়ে তিনি বিরোধী দলনেতাকে স্পষ্ট শর্ত দিয়ে বলেন, “যাঁরা প্রকৃত অর্থে ঘরছাড়া এবং রাজনৈতিক হিংসার শিকার, দলমত নির্বিশেষে তাঁদের প্রত্যেককে সসম্মানে ঘরে ফেরানো হবে। কিন্তু এই মানবিক এবং আইনি প্রক্রিয়ার আড়ালে কোনো রকম অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি বা আইনভঙ্গকারী যেন রাজনৈতিক আশ্রয় না পায়, তা বিরোধী পক্ষকেও সুনিশ্চিত করতে হবে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই শর্তটি অত্যন্ত মার্জিত এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী। তিনি একদিকে যেমন বিরোধী দলের দাবিকে মান্যতা দিয়ে সমস্ত প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষকে ঘরে ফেরানোর আশ্বাস দিয়েছেন, ঠিক তেমনই আইন ও সুশাসনের স্বার্থে অপরাধীদের চিহ্নিত করার ব্যাপারেও কড়া বার্তা দিয়েছেন। কোনো রকম রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নয়, বরং অপরাধমুক্ত এবং শান্ত বাংলা গড়ে তোলাই যে তাঁর সরকারের মূল লক্ষ্য, আজ বিধানসভার প্রথম দিনেই সেই বার্তা কোটি কোটি রাজ্যবাসীর কাছে পৌঁছে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
