প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-একজন জনপ্রতিনিধির আসল পরিচয় শুধু নির্বাচনের জয়-পরাজয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং আইনসভার ভেতর তাঁর আচরণ এবং সংসদীয় রীতিনীতি মেনে চলার দক্ষতার ওপর নির্ভর করে। শুক্রবার নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে ১৮তম বিধানসভার নতুন বিধায়কদের বিশেষ ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামের প্রথম দিনে এভাবেই নতুনদের গুরুদায়িত্ব মনে করিয়ে দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। লোকসভা সচিবালয়ের অধীনে ‘প্রাইড’ (PRIDE) এবং রাজ্য বিধানসভার যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে নতুনদের উদ্দেশ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ‘গুরুমন্ত্র’ দেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান ১৮তম বিধানসভার একটি বড় অংশ, অর্থাৎ প্রায় ৬২ শতাংশ বিধায়কই এবার প্রথমবার নির্বাচিত হয়ে এসেছেন। ফলে আইনসভার ভেতরকার জটিল নিয়মকানুন, প্রশ্নোত্তর পর্বের রীতিনীতি এবং কীভাবে নিজের এলাকার সমস্যা সুনির্দিষ্ট নিয়মে সরকারের কাছে তুলে ধরতে হয়—তা অনেক নবাগতরই অজানা। শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, “জনগণ আপনাকে যে ভরসা নিয়ে পাঠিয়েছেন, তার সঠিক প্রতিফলন ঘটাতে হলে সংসদীয় কার্যপ্রণালী ভালোভাবে রপ্ত করা আবশ্যিক।” এই দু’দিনের ওরিয়েন্টেশন ক্লাসকে তিনি অত্যন্ত সময়োপযোগী এবং শিক্ষণীয় এক সুযোগ বলে ব্যাখ্যা করেন।
জনপ্রতিনিধিদের নিয়মানুবর্তিতার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিধানসভায় প্রতিটি সেকেন্ড অত্যন্ত মূল্যবান। তাই অধিবেশন কক্ষে শুধু উপস্থিত থাকাই যথেষ্ট নয়, বরং বিলের চুলচেরা বিশ্লেষণ এবং গঠনমূলক আলোচনায় অংশ নেওয়া প্রয়োজন। বিধায়কদের আচরণ যেন কোনোভাবেই আইনসভার গরিমা ক্ষুণ্ণ না করে, সেই বিষয়েও তিনি কড়া ও স্পষ্ট বার্তা দেন।
বক্তব্যের মাঝেই মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিখ্যাত স্লোগানকে উদ্ধৃত করে নতুন বিধায়কদের পরামর্শ দেন, আমাদের “বিকাশ ভি অর বিরাসত ভি” মন্ত্রে দীক্ষিত হতে হবে। এর অর্থ হলো, একদিকে যেমন বাংলাকে আধুনিক পরিকাঠামো ও উন্নয়নের শিখরে নিয়ে যেতে হবে, অন্যদিকে বাংলার গৌরবময় ইতিহাস, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকেও একইভাবে রক্ষা করতে হবে। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুর উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর এই বার্তা নতুন বিধায়কদের আগামী পাঁচ বছরের কাজের দিশা দেখাল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
