Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

গর্ভগৃহের বাইরে হুট করে ‘উপুড়’ হয়ে শুয়ে পড়লেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু! ইস্কনের রথযাত্রার সেই ভাইরাল মুহূর্তের আসল সত্যটি কী?

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-কলকাতার আলবার্ট রোডের ইস্কন (ISKCON) মন্দিরে আয়োজিত ৫৫তম রথযাত্রার মঞ্চ মাতালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে তাঁর দেওয়া বড় বড় প্রশাসনিক ঘোষণার চেয়েও এই মুহূর্তে নেটপাড়ায় সবচেয়ে বেশি চর্চা হচ্ছে একটি বিশেষ দৃশ্য নিয়ে। মন্দির প্রাঙ্গণে প্রবেশ করার পর হঠাৎ করেই সবাইকে চমকে দিয়ে মেঝের ওপর সম্পূর্ণ শুয়ে (সাষ্টাঙ্গে দণ্ডবৎ প্রণাম) পড়েন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী! অনেকেই ভাবছেন মুখ্যমন্ত্রী কি তবে মন্দিরের গর্ভগৃহের ভেতরে ঢুকে এই কাণ্ড ঘটালেন? কেমন ছিল সেই মুহূর্তের আসল সত্য?গর্ভগৃহ নাকি বাইরে? কী ঘটেছিল সেই মুহূর্তে!

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রথামাফিক মন্দিরের মূল চত্বরে প্রবেশ করে জগন্নাথ দেব, বলরাম ও সুভদ্রা মহারানীর বিগ্রহের মুখোমুখি হন। তবে তিনি কিন্তু মন্দিরের ভেতরের ‘গর্ভগৃহে’ প্রবেশ করেননি, বরং গর্ভগৃহের ঠিক বাইরে, যেখানে সাধারণ ভক্তরা দাঁড়িয়ে দর্শন করেন, সেই নাটমন্দিরের মেঝেতেই নিজের রাজকীয় প্রোটোকল ভুলে হুট করে উপুড় হয়ে শুয়ে পড়েন! সনাতন শাস্ত্রের নিয়ম মেনে বিগ্রহের ঠিক সামনে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করতেই তিনি এই সাষ্টাঙ্গে দণ্ডবৎ প্রণামটি করেন। বেশ কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে পরম ভক্তিতে প্রণাম সেরে উঠে দাঁড়ানোর পর মন্দিরের সন্ন্যাসীরা তাঁকে আশীর্বাদ করেন।

ইস্কন মন্দিরের মূল প্রাঙ্গণে কেবল শুয়ে পড়ে প্রণাম করাই নয়, পুরীর রাজাদের ঐতিহ্য মেনে এদিন কলকাতার বুকে ‘ছেরা পহনরা’ বা রথের রাস্তা পরিষ্কার করার আচারও পালন করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল একটি বিশেষ রূপক সোনার ঝাঁটা, যা দিয়ে তিনি রথের সামনের পথ সযত্নে ঝাঁট দেন। এরপর ভক্তিভরে জগন্নাথ দেবের মহাপুজো ও আরতি সমাপন করে রথের রশিতে টান দিয়ে মহানগরের এই ঐতিহাসিক উৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন তিনি।

এই আধ্যাত্মিক আবহের মাঝেই রাজ্যের সমস্ত স্কুলপড়ুয়াদের জন্য এক বিরাট উপহারের কথা ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি মঞ্চ থেকে স্পষ্ট জানান, আগামী ১ আগস্ট থেকে রাজ্যের সমস্ত সরকারি স্কুলের মিড-ডে মিলের পুষ্টিকর খাবার তৈরির প্রধান দায়িত্ব সামলাবে খোদ ইস্কন কর্তৃপক্ষ! অন্যান্য রাজ্যে ইস্কন যেভাবে অত্যন্ত সুনামের সাথে এই কাজ করছে, এবার বাংলাতেও সেই মডেল আনা হচ্ছে। একই সাথে শ্রীলা প্রভুপাদের কলকাতার বাড়িটিকে ‘হেরিটেজ সাইট’ হিসেবে ঘোষণা করার জন্য তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে দরবার করবেন বলেও আশ্বাস দেন।

Exit mobile version