প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬ সালের ঐতিহাসিক বিধানসভা নির্বাচনের পর আজ এক নজিরবিহীন ও নাটকীয় মুহূর্তের সাক্ষী থাকল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অলিন্দ। বৃহস্পতিবার নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথ গ্রহণ পর্ব শেষ হতেই মুখোমুখি হয়ে যান রাজ্যের দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব—খোদ নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বেলেঘাটার নবনির্বাচিত তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ। বিধানসভার লবিতে আচমকা ঘটে যাওয়া এই বেনজির ঘটনা দেখে সেখানে উপস্থিত সকলে মুহূর্তের জন্য থমকে যান। এদিন বিধানসভায় বিধায়ক হিসেবে প্রথমবার শপথ নেন কুণাল ঘোষ। শপথ গ্রহণ শেষে তিনি যখন লবি দিয়ে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই উল্টো দিক থেকে আসছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
অতীতে তীব্র রাজনৈতিক লড়াই, কড়া বাগযুদ্ধ এবং একে অপরের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেও, এদিন বিধানসভার অলিন্দে দেখা গেল সম্পূর্ণ ভিন্ন এক ছবি। মুখ্যমন্ত্রীকে সামনে দেখে কুণাল ঘোষ নিজেই সৌজন্য দেখিয়ে এগিয়ে যান এবং অত্যন্ত বিনীতভাবে হাসিমুখে তাঁকে “শুভেচ্ছা” জানান।তৃণমূল বিধায়কের কাছ থেকে আচমকা এই শুভেচ্ছা পেয়ে বিন্দুমাত্র সৌজন্য প্রকাশে খামতি রাখেননি নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনিও থমকে দাঁড়ান এবং মুখে চওড়া হাসি নিয়ে কুণাল ঘোষকে উদ্দেশ্য করে বলে ওঠেন, “কী, শেষ পর্যন্ত জিতে গেলেন তো?” রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রীর এই চওড়া হাসি এবং খোলামনে প্রতিপক্ষকে স্বাগত জানানোর ভঙ্গি নিমেষের মধ্যে লবির রাজনৈতিক উত্তাপ ও গুমোট পরিবেশ হালকা করে দেয়।
মুখ্যমন্ত্রীর এই আন্তরিকতার রেশ কাটতে না কাটতেই সেখানে উপস্থিত হন বিজেপির প্রবীণ নেতা তথা রাজ্যের নবনিযুক্ত পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তিনি আরও এক কদম এগিয়ে প্রকাশ্যেই কুণাল ঘোষকে উষ্ণ আলিঙ্গনে আবদ্ধ করেন ও কোলাকুলি করেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংঘাত ভুলে বিজয়ী বিজেপি শিবিরের এই শীর্ষ দুই নেতার এমন অমায়িক ও উদার আচরণ দেখে সেখানে উপস্থিত অন্যান্য দলের বিধায়ক ও সাংবাদিকরা কার্যত হতবাক হয়ে যান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে বাংলায় নতুন বিজেপি সরকার গঠনের পর তারা কোনো প্রতিহিংসামূলক রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়, বরং বিরোধীদের পূর্ণ সম্মান ও গণতান্ত্রিক সৌজন্য দিতে প্রস্তুত। তবে বিধানসভার অলিন্দে যেভাবে তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা কুণাল ঘোষ নিজে এগিয়ে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে শুভেচ্ছা জানালেন এবং বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে হাসিমুখে সৌজন্য বিনিময় করলেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই তৃণমূলের অন্দরে তীব্র অস্বস্তি ও জল্পনা শুরু হয়েছে বলে খবর।
