প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-“একজনকেও ছাড়া হবে না। না খাব, না খেতে দেব!”— পূর্বতন সরকারের আমলের আর্থিক অনিয়ম ও তোষণ রাজনীতিকে সমূলে উপড়ে ফেলতে ঠিক এই ভাষাতেই পাহাড়ের মাটি থেকে কড়া বার্তা দিলেন পশ্চিমবঙ্গের নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি তাঁর তৃতীয়বার পাহাড় সফর। আজ কার্শিয়ংয়ের জনসভা থেকে তিনি স্পষ্ট করে দেন, বিগত জমানায় গোর্খাল্যান্ড আঞ্চলিক প্রশাসন (GTA) এবং বিভিন্ন উন্নয়ন পর্ষদের নামে পাহাড়ের সাধারণ মানুষের যে সরকারি তহবিল নয়ছয় হয়েছে, তার প্রতিটা পয়সার হিসেব আইনানুগভাবে বুঝে নেবে বর্তমান বিজেপি সরকার। সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্তদের আসল জায়গা রাজপ্রাসাদ নয়, বরং শ্রীঘর হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি। ক্ষমতায় আসার পর এই নিয়ে তৃতীয়বার পাহাড়ে এলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আর প্রতিবারের মতোই এই সফরেও তিনি বুঝিয়ে দিলেন, রাজ্যে আইনের শাসন ও স্বচ্ছ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে নতুন সরকার কতটা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। পাহাড়ের সহজ-সরল মানুষকে দশকের পর দশক ধরে বঞ্চিত করে যারা আর্থিক অনিয়ম করেছে, তাদের জবাবদিহি করতে মুখ্যমন্ত্রীর এই শক্ত অবস্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
মুখ্যমন্ত্রীএদিন কার্শিয়ংয়ের মন্টেভিট গ্রাউন্ডের বিশাল জনসভা থেকে পূর্বতন তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের তৈরি করা ১১টি উন্নয়ন পর্ষদের তীব্র সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি চাঁছাছোলা ভাষায় বলেন, “পাহাড়ের উন্নয়নের নামে আগের সরকার যে পর্ষদগুলো তৈরি করেছিল, সেগুলোর বিরুদ্ধে বিপুল আর্থিক অনিয়ম এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। পাহাড়ের গরিব মানুষের জন্য বরাদ্দ টাকা আগের জমানার একাংশ নেতা আত্মসাৎ করেছে বলে অভিযোগ। কিন্তু মনে রাখবেন, রাজ্যে এখন ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার। এই সরকার দুর্নীতিকে বিন্দুমাত্র বরদাস্ত করে না।” প্রধানমন্ত্রীর দুর্নীতি-বিরোধী স্লোগানকে হাতিয়ার করে তিনি সাফ জানান, তাঁর ক্যাবিনেটে অনিয়মের কোনো স্থান নেই। যারা পাহাড়ের টাকা নয়ছয় করে অবৈধ সম্পত্তি বানিয়েছে, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে পুঙ্খানুপুঙ্খ এবং নিরপেক্ষ তদন্ত প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে।
বিগত জমানার বঞ্চনা এবং বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে পাহাড়ে প্রকৃত ‘সবকা সাথ, সবকা বিকাশ’ পৌঁছে দিতে একগুচ্ছ উন্নয়নমূলক রূপরেখাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। দীর্ঘদিন ধরে ধুঁকতে থাকা এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া চা বাগানের শ্রমিকদের বকেয়া মেটানো এবং তাঁদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বিশেষ প্যাকেজ। পাহাড়ের চিকিৎসাব্যবস্থাকে মজবুত করতে কালিম্পঙে একটি আধুনিক ও বিশ্বমানের মেডিকেল কলেজ স্থাপন। জিটিএ-র তহবিলের নামে আগের সরকারের জমানায় যে আর্থিক অসঙ্গতি হয়েছে, তার আসল রূপ জনসমক্ষে আনতে খুব শীঘ্রই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর এই তীক্ষ্ণ আক্রমণ শুধু রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বরং পাহাড় থেকে সমতল— সমগ্র রাজ্যকে দুর্নীতিমুক্ত করার এক জোরালো প্রশাসনিক ব্লু-প্রিন্ট।
