প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে যে পশ্চিমবঙ্গকে দিল্লির বিরোধিতা করতে গিয়ে ভারতীয় সনাতন সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে রাখা হয়েছিল, ২০২৬ সালে এসে সেই বাংলায় আজ এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের জোয়ার স্পষ্ট। আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে আজ, শুক্রবার কলকাতার রাজপথে সশরীরে নেমে বিগত তৃণমূল সরকারের তোষণমূলক ও সংকীর্ণ মানসিকতাকে রাজনৈতিকভাবে পরাস্ত করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আজ সকালে কলকাতা পুরনিগম (KMC) সদর দফতর থেকে রাইটার্স বিল্ডিং (মহাকরণ) পর্যন্ত প্রায় ২ কিলোমিটার দীর্ঘ ‘রান ফর যোগা’ বা ‘দৌড় সে ধ্যান’ ম্যারাথনের নেতৃত্ব দেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। শুধু ম্যারাথনের ফ্ল্যাগ অফ করাই নয়, নিজেই সাধারণ মানুষের সঙ্গে পা মিলিয়ে দৌড়ান তিনি। এরপর মহাকরণের ঐতিহাসিক রাজপথে সাধারণ মানুষের পাশে বসে প্রাণায়াম ও যোগব্যায়াম করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
একটু ফ্ল্যাশব্যাকে যাওয়া যাক। বিগত তৃণমূল জমানায় আন্তর্জাতিক যোগ দিবসকে সুকৌশলে এড়িয়ে যাওয়া হতো। মোদী-বিরোধিতা আর নির্দিষ্ট একটি ভোটব্যাংককে খুশি করার তাগিদে যোগব্যায়ামের মতো একটি বৈজ্ঞানিক ও প্রাচীন ভারতীয় ঐতিহ্যকে ‘গেরুয়াকরণ’ তকমা দিয়ে রাজ্যের সরকারি স্তরে ব্রাত্য করে রেখেছিল তৎকালীন শাসকেরা। নবান্ন থেকে বারবার ফতোয়া জারি করে যোগ দিবসের কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠান বয়কট করত তারা। এখন যারা নির্বাচনে হেরে বিরোধী আসনে বসে বড় বড় কথা বলছে, তারা মনে করত যোগব্যায়ামের প্রচার করলে বুঝি তাদের তোষণের রাজনীতিতে আঘাত লাগবে! কিন্তু আজ নবান্নে দাঁড়িয়ে খোদ বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যখন দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন— “যোগ কোনও চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়। এই পশ্চিমবঙ্গের মাটি থেকেই যে যোগের সূচনা হয়েছিল, তাকে আবার তার পুরোনো জায়গায় ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আমরা এতদিন বিচ্ছিন্ন ছিলাম, এবার যুক্ত হলাম।”— তখন তা শুধু একটি বক্তব্য থাকে না, তা হয়ে ওঠে বাংলার বুক থেকে ছদ্ম-ধর্মনিরপেক্ষতার দেওয়াল ভেঙে ফেলার এক হুঙ্কার। স্বামী বিবেকানন্দ, পরমহংস যোগানন্দ কিংবা শ্রী অরবিন্দের যে বাংলা যোগ এবং আধ্যাত্মিকতাকে বিশ্বমঞ্চে নিয়ে গিয়েছিল, সেই বাংলাকে রাজনৈতিক স্বার্থে যারা পঙ্গু করে রেখেছিল, আজ বিরোধী শিবিরে বসে তাদের সেই ছক সম্পূর্ণ ব্যর্থ হলো।
রাজনৈতিক মহলের মতে, আগামী ২১ জুন কলকাতার রেড রোডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উপস্থিতিতে যে মেগা ইভেন্ট হতে চলেছে, তার সাফল্য নিশ্চিত করতেই আজ থেকে ৩ দিনের এই মহাযজ্ঞ শুরু করে দিল বর্তমান বিজেপি সরকার। আজ কলকাতার ১১টি প্রান্তে একযোগে ফিটনেস ক্যাম্প ও ম্যারাথন হয়েছে। আগামীকাল শনিবার গঙ্গাবক্ষে ৩,০০০ ড্রোন নিয়ে যে ‘বন্দে যোগম’ লেজার শো এবং হুগলি নদীতে ৫৯টি নৌকায় একসাথে মাস যোগা ডেমোনস্ট্রেশনের পরিকল্পনা করা হয়েছে, তা এর আগে কখনো দেখেনি বাংলা।
রেড রোডের মূল অনুষ্ঠানের জন্য ইতিমধ্যেই ৩৫,০০০-এর বেশি মানুষ নাম নথিভুক্ত করেছেন। সরকারি নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে, এবার রাজ্যের প্রতিটি স্কুল ও সরকারি দফতরে এই যোগ দিবস পালন করতে হবে। যারা ক্ষমতায় থাকাকালীন ভারতকে খাটো করতে গিয়ে যোগ দিবসকে ‘দিল্লির উৎসব’ বলে ব্যঙ্গ করত, আজ কলকাতার রাজপথে শুভেন্দু অধিকারীর এই আসন করার দৃশ্য সেই পরাজিত ও ক্ষমতাচ্যুত শক্তির রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা ঘুচিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। বাংলা যে অবশেষে তোষণমুক্ত হয়ে মূল ভারতীয় সংস্কৃতির স্রোতে ফিরে এসেছে, আজকের এই ঘটনাই তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
