Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

৩০ সেকেন্ডের সাক্ষাৎ, তাতেই কাঁপছে কলকাতা! দিল্লির বঙ্গভবনে শুভেন্দু-ঋতব্রত মুখোমুখি, ক্ষোভের মাঝেই নতুন সমীকরণ?

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দিল্লির রাজনীতির অলিন্দে হঠাৎই এক তীব্র রাজনৈতিক ভূকম্পন। একদিকে যখন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর মেগা বৈঠকের দিকে তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য, ঠিক তখনই ঘটল সেই অভাবনীয় ঘটনা। নতুন দিল্লির বঙ্গভবনে সম্পূর্ণ আকস্মিকভাবে মুখোমুখি হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। আর এই অতর্কিত সাক্ষাৎকে কেন্দ্র করেই এখন জাতীয় রাজধানী থেকে শুরু করে কলকাতার রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র আলোড়ন। অনেকেই মনে করছেন, বঙ্গ রাজনীতির অন্দরে হয়ত তলে তলে কোনো বড়সড় পরিবর্তনের চিত্রনাট্য তৈরি হচ্ছে।

সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, বিজেপি সদর দফতর থেকে বঙ্গভবনে এসে পৌঁছান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ঠিক সেই মুহূর্তেই সেখানে উপস্থিত ছিলেন উলুবেড়িয়া পূর্বের তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছাড়াই দুই শিবিরের নেতার এই মুখোমুখি সাক্ষাৎ কার্যত রূপ নেয় এক টানটান নাটকে। অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত, মাত্র ৩০ থেকে ৪০ সেকেন্ডের এই সাক্ষাতে দুপক্ষের মধ্যে মূলত সৌজন্য ও শুভেচ্ছা বিনিময় হয়। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের নজর কেড়েছে মুখ্যমন্ত্রীর একটি বার্তা। সূত্রের খবর, শুভেন্দু অধিকারী ঋতব্রতকে জানিয়েছেন যে, তিনি অত্যন্ত দ্রুত সমস্ত বিধায়কদের (MLAs) নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ডাকছেন।

তৃণমূলের অন্দরের বর্তমান ডামাডোলের আবহে এই সাক্ষাৎকার ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই দলবদলের জল্পনা শতগুণ বেড়ে গিয়েছে। যদিও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় একে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যহীন ও “নেহাতই সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ” বলে দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, সাংসদ পদের মেয়াদ শেষ হওয়ায় দিল্লির সরকারি আবাসন বা বাড়ি ছাড়ার আইনি কাজ সারতেই তিনি রাজধানী এসেছেন। পাশাপাশি আইডি কার্ড পরিবর্তন ও পাসপোর্ট জমা দেওয়ার মতো কিছু ব্যক্তিগত প্রশাসনিক কাজও ছিল তাঁর।

মুখে ঋতব্রতবাবু প্রশাসনিক কাজের কথা বললেও, ওয়াকিবহাল মহল একে এত সহজে ছেড়ে দিতে নারাজ। কারণ, গত দুদিন আগেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের দলের একাংশের দুর্নীতিগ্রস্ত নেতাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ক্ষোভ উগরে দিয়ে স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, তিনি কোনো অপকর্মের দায় নেবেন না। নিজের দলের নেতৃত্বের ওপর তাঁর এই প্রকাশ্য অসন্তোষের ঠিক ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দেশের রাজধানীতে স্বয়ং শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে এই “হঠাৎ দেখা” নতুন কোনো রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে কিনা, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে কোটি টাকার প্রশ্ন। এখন দেখার, বঙ্গভবনের এই সংক্ষিপ্ত সৌজন্য সাক্ষাৎ আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিতে কোনো নতুন মোড় নিয়ে আসে কিনা।

Exit mobile version