প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক স্তরে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও মেগা বৈঠকের সাক্ষী থাকল তিলোত্তমা। অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডুর পুত্র তথা সে রাজ্যের আইটি ও ইলেকট্রনিক্স মন্ত্রী নারা লোকেশের সঙ্গে কলকাতায় এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ১৮ জুন রাতে একটি বিশেষ নৈশভোজে এই দুই হেভিওয়েট নেতার মধ্যে দীর্ঘ আলোচনা হয়।
সামাজিক মাধ্যমে এই বৈঠকের কথা জানিয়ে অন্ধ্রের মন্ত্রী নারা লোকেশ লেখেন, “কলকাতায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে অত্যন্ত ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।” বৈঠকে মূলত দুই রাজ্যের সুশাসন (Good Governance), জনকল্যাণমুখী প্রকল্পের সফল বণ্টন এবং সরকারি কাজে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে। অন্ধ্রপ্রদেশের ‘স্পিড অফ ডুইং বিজনেস’ নীতি ও ডিজিটাল গভর্নেন্স ব্যবস্থার সফল অভিজ্ঞতার কথাও শুভেন্দু অধিকারীর কাছে তুলে ধরেন তিনি।
শুধু রাজনৈতিক আদানপ্রদান নয়, দুই রাজ্যের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক উন্নয়নের একাধিক বিষয়েও এই বৈঠকে সবুজ সংকেত মিলেছে। মৎস্যচাষ, রপ্তানি বাণিজ্য, সংস্কৃতি এবং পর্যটন ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ ও অন্ধ্রপ্রদেশের পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে একমত হয়েছেন দুই নেতাই। এর পাশাপাশি, পশ্চিমবঙ্গে একটি ঐতিহ্যবাহী টিটিডি (তিরুমালা তিরুপতি দেবস্থানম) মন্দির প্রতিষ্ঠার জন্যও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন নারা লোকেশ।
বৈঠক শেষে নারা লোকেশের হাতে বাংলার ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির মেলবন্ধন মাখানো দুটি বিশেষ উপহার তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পশ্চিম মেদিনীপুরের পিংলার নয়াগ্রামের পটুয়া শিল্পী স্বর্ণলতা চিত্রাকরের তৈরি এই প্রাকৃতিক রঙের পটচিত্রটি অন্ধ্র ও বাংলার ভক্তি আন্দোলনের ঐতিহাসিক সংযোগকে তুলে ধরে। প্রায় ২,০০০ বছর আগে বাংলার প্রাচীন তাম্রলিপ্ত (তমলুক) বন্দরের সঙ্গে অন্ধ্রপ্রদেশের মুসলিপত্তনমের নৌ-বাণিজ্যিক সম্পর্কের ঐতিহাসিক তাৎপর্যকে মনে করিয়ে দিতেই এই বিশেষ স্মারক। জাতীয় রাজনীতি এবং দুই রাজ্যের প্রশাসনিক মেলবন্ধনের ক্ষেত্রে এই বৈঠককে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
