Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

শুভেন্দুর পুলিশের ভয়েই কি রাজাবাজার এড়ালেন মমতা? আইনি জটিলতার খাঁড়ায় মুখ পুড়ল শিবিরের!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাংলায় আর আগের মতো ‘পছন্দের পুলিশি ব্যবস্থা’ বা রাজনৈতিক প্রশ্রয় পাওয়ার দিন যে শেষ, তা মঙ্গলবার কলকাতার রাজাবাজারে আরও একবার প্রমাণিত হয়ে গেল। নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে মঙ্গলবার দুপুরে ‘মমতা তৃণমূল’-এর ছাত্র-যুব সংগঠন রাজাবাজার থেকে পার্ক সার্কাস পর্যন্ত এক মেগা মিছিলের ডাক দিয়েছিল। কিন্তু মিছিল শুরুর আগেই কলকাতা পুলিশের সিপি অজয় কুমার নন্দ স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই কর্মসূচির কোনো আইনি অনুমতি বা ‘পারমিশন’ নেই। আর পুলিশের এই একটি আইনি হুঁশিয়ারিতেই কি শেষ মুহূর্তে রণে ভঙ্গ দিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? মঙ্গলবার রাজাবাজারে তাঁর এই রহস্যময় অনুপস্থিতি নিয়ে এখন রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, বর্তমান বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর স্পষ্ট বার্তা ছিল—আইন অমান্য করে উৎসবের মরসুমে সাধারণ মানুষকে হেনস্থা করা বরদাস্ত করা হবে না। মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি পুলিশকে নির্দেশ দেন, যেখানে বেআইনি মিছিল শুরু হবে, আইন অনুযায়ী ঠিক সেখানেই তা স্তব্ধ করে দিতে হবে। বিজেপি শিবিরের তীব্র কটাক্ষ, অতীতে যিনি আদালতের নির্দেশ বা আইনি নিয়মের তোয়াক্কা না করে যখন-তখন রাজপথ কাঁপাতেন, আজ শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনের কড়া আইনি ব্যবস্থার সামনে তিনি সম্পূর্ণ কোণঠাসা। বিরোধীদের একাংশের প্রশ্ন, পুলিশি গ্রেফতারি বা নতুন কোনো আইনি মামলার খাঁড়া ঘাড়ের ওপর নেমে আসার ভয়েই কি সচেতনভাবে রাজাবাজারে পা রাখলেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? ক্ষমতা হারানোর পর বর্তমান রাজ্য সরকারের কঠোর আইনি অবস্থানের ভয়ই এখন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে রাজপথের লড়াই থেকে দূরে রাখছে বলে দাবি সমালোচকদের।

ওয়াকিবহাল মহলের মতে, মিছিলের ডাক দেওয়ার পর থেকেই দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষরা সুকৌশলে প্রচার করতে শুরু করেছিলেন যে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মিছিলে থাকার সম্ভাবনা কম। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দাবি, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব আগে থেকেই জানতেন যে অনুমতি ছাড়া রাস্তায় নামলে যোগী বা হিমন্ত বিশ্বশর্মার মডেলের মতই কঠোর অ্যাকশন নেবে শুভেন্দু অধিকারীর পুলিশ। সমালোচকদের তীব্র আক্রমণ, আইনি পারমিশন না থাকার বিষয়টিকে ঢাল বানিয়ে আসলে নিজের রাজনৈতিক মুখ পুড়টে বাঁচাতে চাইলেন দলনেত্রী। কারণ তিনি ভালো করেই জানতেন, অনুমতি ছাড়া মিছিল করলে পুলিশ কমিশনার অজয় কুমার নন্দের বাহিনী কোনো রেয়াত করবে না। ফলে নবান্নের নতুন শাসকের কড়া আইনের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে মাথা নত করার চেয়ে ‘কালীঘাটে অন্য কর্মসূচি ছিল’—এই ঠুনকো অজুহাত খাড়া করা অনেক বেশি সুবিধাজনক বলে মনে করেছে মমতা-শিবির, এমনটাই দাবি রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।

বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, অতীতে রাজ্যে যে অরাজকতা ও আইন না মানার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, বর্তমান ডবল ইঞ্জিন সরকার তা সম্পূর্ণ উপড়ে ফেলতে বদ্ধপরিকর। রাজাবাজারের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং পুলিশের নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করে যেভাবে মিছিলকে শুরুতেই আটকে দেওয়া হলো, তা বর্তমান সরকারের এক বিরাট প্রশাসনিক জয়। রাজনৈতিক মহলের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজাবাজারে না যাওয়া এটাই প্রমাণ করে দিল যে, বাংলায় এখন ব্যক্তি বা দলের ইচ্ছা নয়, বরং কঠোরভাবে আইনের শাসনই শেষ কথা বলছে। আর এই নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে না পেরেই মমতা-ব্রিগেড এখন দিশাহীন।

Exit mobile version