Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

“আগামী ৫৫ মাস এই রাজ্যে বিজেপিই থাকবে!” ভোটের মুখে রেজিনগরে দাঁড়িয়ে এ কীসের ইঙ্গিত দিলেন শুভেন্দু?

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-মুর্শিদাবাদের রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রের হাইভোল্টেজ উপনির্বাচনের (৬ অক্টোবর) আগে ভোটপ্রচারে গিয়ে বিরোধীদের একহাত নিলেন পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রবীণ বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর ২০২৬) রেজিনগরের শক্তিপুরে বিজেপি প্রার্থী শাখারভ সরকারের সমর্থনে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিয়ে ২০২৬ সালের মে মাসে গঠিত তাঁর নতুন ডবল ইঞ্জিন সরকারের স্থায়িত্ব এবং উন্নয়নের ভবিষ্যৎ রূপরেখা মনে করিয়ে দেন তিনি।
সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই এলাকায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী ঠিক কী কারণে আগামী ৫৫ মাসের প্রসঙ্গ টেনে এনেছেন এবং এর রাজনৈতিক ইঙ্গিত ঠিক কী, তা তাঁর বক্তব্য থেকে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।

বিরোধী দলগুলির (তৃণমূল, বাম ও কংগ্রেস) দিকে তোপ দেগে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “বিরোধীরা ভোটারদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু মানুষ এখন আর কোনো ফুটো নৌকায় উঠবে না। ২০২৬ সালের মে মাসে রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর আমাদের সরকারের পাঁচ মাস ইতিমধ্যে অতিক্রান্ত। সবাই খুব ভালো করে জানে যে, বিধানসভার মেয়াদ অনুযায়ী আগামী আরও ৫৫ মাস এই রাজ্যে বিজেপি সরকারই সম্পূর্ণ ক্ষমতায় থাকবে এবং কেন্দ্রেও মোদীজি রয়েছেন।” তিনি ইঙ্গিত দেন যে, ক্ষমতার এই দীর্ঘ মেয়াদের সুফল পেতে হলে রেজিনগরের মানুষকে সরাসরি সরকারি দলের প্রার্থীর পাশেই দাঁড়াতে হবে।

রেজিনগরের প্রাক্তন বিধায়ক তথা অধুনা নওদা আসনের জয়ী প্রতিনিধি হুমায়ুন কবীরকে তীব্র আক্রমণ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “হুমায়ুন সাহেব নওদা থেকে বিধানসভায় গিয়েছেন। এই গত পাঁচ মাসে তিনি নাওদার মানুষকে কী দিয়েছেন? একটা ইটও গাঁথতে পারেননি। আর আমি নিশ্চিত করে বলছি, আগামী ৫৫ মাসেও তিনি সেখানে একটা ইটও গাঁথতে পারবেন না।” এর মাধ্যমেই তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, বিরোধী দলের বিধায়করা উন্নয়নের নিরিখে রাজ্য সরকারের শক্তির সামনে খড়কুটোর মতো উড়ে যাবেন।

রেজিনগরের চেনা সাম্প্রদায়িক ভোটের সমীকরণ এবার পুরোপুরি বদলে যাবে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “রেজিনগরে কোনো বিভাজন বা ধর্মের ভিত্তিতে ভোট হবে না। যে সংখ্যালঘু ভাইবোনেরা এতদিন বিজেপিকে ভোট দেননি, তাঁরাও এবার লাইন দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন এবং বলেছেন যে তাঁরা আর নিজেদের মূল্যবান ভোট নষ্ট করবেন না।” মুখ্যমন্ত্রী আরও আশ্বাস দেন যে, আগামী দেড় বছরের মধ্যে রেজিনগর শিল্পতালুকে নতুন কারখানার কাজ শুরু হবে এবং বহিরাগত পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফিরিয়ে এনে এখানেই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে তাঁর সরকার। আগামী ৬ অক্টোবর এই আসনে ভোটগ্রহণ এবং ৯ নভেম্বর ফলাফল ঘোষণা হবে।নির্বাচনের ঠিক মুখে মুখ্যমন্ত্রীর এই আক্রমণাত্মক ও আত্মবিশ্বাসী বার্তা ওই অঞ্চলের রাজনৈতিক উত্তাপকে এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে।

Exit mobile version