প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে অভূতপূর্ব সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টির (BJP) ঐতিহাসিক সরকার গঠনের পর, রাজ্যের রাজনৈতিক চালচিত্রে এক নতুন এবং সুদূরপ্রসারী অধ্যায়ের সূচনা হলো। মে মাসের তীব্র রাজনৈতিক তাপউত্তাপের মাঝেই এবার দেশের রাজধানী দিল্লির এক হাই-প্রোফাইল মঞ্চ থেকে এল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এক রাজনৈতিক বার্তা। রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘের (RSS) সাধারণ সম্পাদক (সরকার্যবাহ) দত্তাত্রেয় হোসাবালে পশ্চিমবঙ্গের নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীকে সঙ্ঘের নিজেদের ‘ঘরের ছেলে’ বলে সম্বোধন করলেন। নবান্ন দখলের পর সঙ্ঘের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছ থেকে পাওয়া এই প্রকাশ্য ও জোরালো ‘সবুজ সংকেত’ বাংলার সমকালীন রাজনীতিতে এক বিরাট মাস্টারস্ট্রোক হিসেবে দেখা হচ্ছে। অন্য দল থেকে বিজেপিতে আসা নেতাদের সঙ্ঘ পরিবার কীভাবে গ্রহণ করে, তা নিয়ে দীর্ঘদিনের যাবতীয় জল্পনা ও বিরোধীদের কুৎসার একবারে চিরতরে অবসান ঘটিয়েছেন দত্তাত্রেয় হোসাবালে।
নয়াদিল্লির একটি অনুষ্ঠানে সঙ্ঘের সাধারণ সম্পাদককে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে, অন্য রাজনৈতিক ধারা থেকে আসা একজন নেতাকে আরএসএস কীভাবে মূল্যায়ন করছে? এর উত্তরে পারিবারিক ব্যবস্থার এক চমৎকার ও মার্জিত উপমা টেনে দত্তাত্রেয় হোসাবালে বলেন, “আরএসএস-এ কোনো আনুষ্ঠানিক সদস্যপদ বা ফর্ম ফিল-আপ করার নিয়ম নেই। আমি নিজেও কখনো কোনো ফর্ম পূরণ করে সঙ্ঘে আসিনি। আরএসএস পুরোপুরি একটি পারিবারিক কাঠামো। একটি পরিবারে যখন নতুন কোনো পুত্রবধূ আসেন, তাঁকে যেমন কোনো মেম্বারশিপ ফর্মে সই করতে হয় না; তিনি স্বাভাবিকভাবেই সেই পরিবারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ওঠেন। শুভেন্দু অধিকারীও আমাদের এই আদর্শগত পরিবারেরই সদস্য এবং তাঁকে নিয়ে সঙ্ঘ অত্যন্ত গর্বিত।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ সালের এই নির্বাচন ছিল বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অভূতপূর্ব বাঁকবদল। সঙ্ঘের শীর্ষ নেতৃত্ব এই জয়কে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াই হিসেবে দেখছেন।দত্তাত্রেয় হোসাবালে মন্তব্য করেছেন যে, বাংলায় এই নির্বাচনটি একটি রাজনৈতিক ‘সুনামি’র মতো ছিল। যখন কোনো সমাজকে দেয়ালে পিঠ ঠেকিয়ে দেওয়া হয়, তখন সাধারণ মানুষ এভাবেই ব্যালটের মাধ্যমে ঐতিহাসিক প্রত্যাঘাত করে। সঙ্ঘের সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিগত বছরগুলোতে বাংলায় তীব্র প্রতিকূলতা, দমনপীড়ন এবং রাজনৈতিক হিংসার শিকার হতে হয়েছে রাষ্ট্রবাদী চিন্তাভাবনার মানুষদের। যার ফলে এবারের নির্বাচনে বাংলার সাধারণ সনাতন হিন্দু ভোটাররাই নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার্থে বুথ স্তরের এক-একজন সক্রিয় ‘কর্মী’ হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন। আরএসএস-এর দীর্ঘদিনের নিবিড় সামাজিক কাজ ও এই গণজাগরণই এবারের নির্বাচনে বিজেপিকে ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছে দিয়েছে।
শুভেন্দু অধিকারী ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে জয়ী হয়ে নিজের রাজনৈতিক দক্ষতা প্রমাণ করেছিলেন। আর ২০২৬ সালের এই নির্বাচনেও নন্দীগ্রাম আসনটি অক্ষুণ্ণ রাখার পাশাপাশি খোদ ভবানীপুর কেন্দ্রেও বিশাল ব্যবধানে ঐতিহাসিক জয় হাসিল করে তিনি নবান্নের শীর্ষাসনে বসেছেন, যা তাঁর রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণের পর প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক থেকেই শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত কড়া হাতে রাজ্য প্রশাসন পরিচালনার স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। সরকারি জমি থেকে বেআইনি উচ্ছেদ, দুর্নীতি রোধ এবং রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত হয়ে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
আরএসএস নেতৃত্বের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর এই আপসহীন রাষ্ট্রবাদী প্রশাসনিক মনোভাব এবং কাজের ধরণ প্রমাণ করে যে, আনুষ্ঠানিক সদস্যপদ না থাকলেও তাঁর ধমনীতে সঙ্ঘের মূল নীতি—’দেশ প্রথম, সমাজ প্রথম’—অত্যন্ত গভীরভাবে জড়িয়ে রয়েছে। বিজেপি সরকারের কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ এবং সঙ্ঘের সুদূরপ্রসারী সামাজিক ভাবনার এই নিখুঁত সমীকরণ আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে এক নতুন যুগের সূচনা করতে চলেছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
