Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

শুভেন্দুর ছেড়ে যাওয়া আসনে কাল মহারণ! নন্দীগ্রাম ও রেজিনগরে কড়া সুরক্ষায় বুথের পথে ভোটকর্মীরা!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-আগামীকাল ৬ অক্টোবর ২০২৬ (মঙ্গলবার) পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও হাই-ভোল্টেজ দিন। মে মাসের সাধারণ বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকার গঠিত হওয়ার পর এই প্রথম বড় কোনো নির্বাচনী পরীক্ষায় নামছে শাসক ও বিরোধী পক্ষ। পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম (২১০) এবং মুর্শিদাবাদের রেজিনগর (৭০) বিধানসভা আসনে আগামীকাল সকাল ৭টা থেকে শুরু হতে চলেছে ভোটগ্রহণ পর্ব। ভোটগ্রহণ সুনিশ্চিত করতে আজ সকাল থেকেই সম্পূর্ণ যুদ্ধকালীন প্রস্তুতি দেখা গেছে দুই জেলার নির্বাচন দফতরে। পূর্ব মেদিনীপুরের নন্দীগ্রাম বিধানসভার জন্য নির্দিষ্ট DCRC (Distribution and Counting Reception Centre) কেন্দ্র ‘কবি সুকান্ত টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউট’-এ সকাল থেকেই ছিল সাজো সাজো রব। জেলা নির্বাচন আধিকারিক (DEO) নিজে এই কেন্দ্র পরিদর্শন করে ইভিএম (EVM) ও ভিভিপ্যাট (VVPAT) বণ্টনের কাজ তদারকি করেছেন। একই চিত্র দেখা গেছে মুর্শিদাবাদের বহরমপুর ডিটিআরসি কেন্দ্রগুলিতেও, যেখান থেকে রেজিনগর বিধানসভার ভোটকর্মীদের সমস্ত সামগ্রী দিয়ে কড়া সুরক্ষায় বুথের উদ্দেশ্যে রওনা করানো হচ্ছে।

নন্দীগ্রাম আসন: মে ২০২৬-এর সাধারণ নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তবে তিনি কলকাতার ভবানীপুর আসনটিও ধরে রাখায় নিয়ম অনুযায়ী নন্দীগ্রাম আসনটি ছেড়ে দেন, যার ফলে এখানে উপনির্বাচন হচ্ছে। রেজিনগর আসন: মুর্শিদাবাদের এই আসনটিতে জয়ী হয়েছিলেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (AJUP)-র প্রতিষ্ঠাতা হুমায়ুন কবীর। তিনি একই সাথে নওদা আসন থেকেও জেতায় পরবর্তীতে রেজিনগর আসনটি খালি করে দেন।

গত রবিবার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় এই দুই আসনেই প্রচারের হাই-ডেসিবল মেগা হাইপ সমাপ্ত হয়েছে। এই উপনির্বাচনে দুই আসনেই প্রার্থীরা একে অপরের মুখোমুখি হচ্ছেন তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। নন্দীগ্রামের সমীকরণ: এখানে বিজেপির টিকিটে লড়ছেন হাসিরানি রথ। অন্যদিকে, কংগ্রেসের প্রার্থী মিলন প্রধান কলকাতা হাইকোর্ট থেকে অন্তর্বর্তী জামিন পাওয়ার পর শেষ মুহূর্তে জেল থেকে ছাড়া পেয়ে জোরকদমে প্রচারের ময়দানে নামেন, যা শেষ রবিবাসরীয় প্রচারে পারদ চরম মাত্রায় চড়িয়ে দিয়েছে। এছাড়াও অল ইন্ডিয়া সেকুলার ফ্রন্ট (AISF) এবং সিপিআই-এর প্রার্থীরাও ময়দানে আছেন। অতীতে এই দুই এলাকায় রাজনৈতিক সংঘাতের ইতিহাস মাথায় রেখে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসন কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে। ভোটারদের মনে আস্থা ফেরাতে স্পর্শকাতর বুথ ও এলাকাগুলিতে বিগত কয়েকদিন ধরেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা অনবরত রুট মার্চ করছেন।আগামীকাল এই দুই আসনের আমজনতা ইভিএম-এ নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এই হাইপ্রোফাইল উপনির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফল বা ভোট গণনা সম্পন্ন হবে আগামী ৯ অক্টোবর ২০২৬ (শুক্রবার)।

Exit mobile version