Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

দিল্লির দরবারে বাঙালির ‘মুড়ি-কূটনীতি’! চপ-শিল্পের চটকদার গল্পকে বিদায় দিয়ে খোদ মোদীকে ঝালমুড়ি খাওয়ালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণ আর আড্ডার শেষ পাতে ঝালমুড়ি থাকবে না, তা কি হয়? কিন্তু সেই ঝালমুড়ি যখন কলকাতার ওলিগলি ছেড়ে সোজা দেশের ক্ষমতার অলিন্দে, অর্থাৎ দিল্লির ‘ভারত মণ্ডপম’-এ এনডিএ (NDA) জোটের মেগা বৈঠকে ঢুকে পড়ে, তখন তা আর স্রেফ খাবার থাকে না—তা হয়ে ওঠে এক ঝাঁঝালো রাজনৈতিক মাস্টারস্ট্রোক! ঠিক এই রাজকীয় কাজটিই করে দেখালেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ২০২৬ সালের ১০ জুন, বুধবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মেয়াদের এক যুগপূর্তি এবং বাংলায় বিজেপির ঐতিহাসিক জয় উদযাপনের মঞ্চে মোদীর পাতে শালপাতার বাটি ভর্তি খাঁটি বাঙালি ঝালমুড়ি তুলে দিলেন শুভেন্দু। তাও আবার নিজের হাতে মেখে!

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই একটি ছবি যেন বাংলার বিগত জমানার চটকদার ‘চপ-শিল্প’-এর তত্ত্বকে এক ঝটকায় ব্যাকফুটে ঠেলে দিল। নবান্ন থেকে যারা এতদিন বসে স্রেফ চপ ভাজার গল্প শুনিয়ে বাংলার যুবসমাজকে বিভ্রান্ত করার রাজনীতি করেছিলেন, আজ তারা ক্ষমতাচ্যুত, রাজনীতির আঙিনায় কোণঠাসা। আর ঠিক তখনই বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী দিল্লির দরবারে বাঙালির চিরপরিচিত ঝালমুড়িকে পৌঁছে দিলেন এক অনন্য উচ্চতায়। সস্তা চাটুকারিতা নয়, বাংলা এখন দিল্লির সাথে বুক মিলিয়ে চলছে আত্মমর্যাদার সাথে—এই ছবিই যেন তার প্রমাণ।

নয়া দিল্লির ঝাঁ-চকচকে ভারত মণ্ডপমে তখন দেশের তাবড় তাবড় রাজনেতারা উপস্থিত। সেই হাইপ্রোফাইল বৈঠকে কোনো ফাইভ-স্টার হোটেলের দামি মেনু নয়, শুভেন্দু অধিকারীর হাত ধরে জায়গা করে নিল কাগজের ঠোঙা আর শালপাতার বাটি। খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সেই ঝালমুড়ি মুখে দিয়ে এতটাই আপ্লুত হলেন যে, মুহূর্তের মধ্যেই সেই ভিডিও নিজের অফিসিয়াল ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে শেয়ার করে দিলেন। মোদীর সেই হাসিমুখ আর ঝালমুড়ির স্বাদ এক লহমায় বিরোধী শিবিরকে স্পষ্ট বার্তা দিল—দিল্লির মন জয় করতে কোনো কৃত্রিম চাটুকারিতার প্রয়োজন হয় না, ডবল ইঞ্জিন সরকারের এই আত্মিক রসায়নই এখন বাংলার আসল চালিকাশক্তি।

আজ থেকে ঠিক কয়েক মাস আগে, ২০২৬-এর নির্বাচনী প্রচারে ঝাড়গ্রামের মাটিতে এসে খোদ নরেন্দ্র মোদী নিজের পকেট থেকে ১০ টাকা বের করে ঝালমুড়ি কিনে খেয়েছিলেন। দিল্লির এই বৈঠক যেন সেই স্মৃতিকেই আবার জীবন্ত করে তুলল। মোদী একা নন, তাঁর পাশে বসে থাকা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতন রাম মাঞ্জি, উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী সঞ্জয় নিষাদ এবং ওম প্রকাশ রাজভরের মতো শীর্ষ এনডিএ নেতারাও শুভেন্দুর হাতের ঝালমুড়ির স্বাদ তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করলেন।

বাংলায় যারা এতদিন ধরে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরোধিতা করে স্রেফ কুৎসা আর অহংকারের রাজনীতিকে মূল অস্ত্র করেছিলেন, এই ‘ঝালমুড়ি কূটনীতি’ তাঁদের সব হিসেব ওলটপালট করে দিল। দিল্লির অলিন্দে যখন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বৃত্তে বসে খোশমেজাজে মুড়ি মাখছেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই পরাস্ত সাবেক শাসকদলের অন্দরে চড়চড় করে পারদ চড়ছে। এই ছবি পরিষ্কার দেখিয়ে দিল, অতীতের সেই একনায়কতান্ত্রিক জমানা এখন অতীত—বাংলার নতুন সরকারের সাথে দিল্লির মসনদের রাজযোটক এখন কতটা মজবুত, কতটা ঝাঁঝালো এবং কতটা অটুট।

Exit mobile version