Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

ফলতায় ‘পুষ্পা’র সাম্রাজ্য গুঁড়িয়ে দেওয়ার হুঙ্কার! ভোট-লুটেরাদের সরাসরি চরম হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় পুনর্নির্বাচনের ঠিক আগে জমজমাট রাজনৈতিক ময়দান। ইভিএম কারচুপি এবং সাধারণ নির্বাচনের সময় হওয়া চরম অরাজকতার পর নির্বাচন কমিশন যখন গোটা ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনরায় ভোটগ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে, তখনই ফলতার মাটিতে দাঁড়িয়ে তৃণমূলের স্বৈরাচারী ও হিংসাশ্রয়ী রাজনীতির কড়া সমালোচনা করলেন রাজ্যের নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এলাকার মানুষকে আশ্বস্ত করে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণকারী কোনও ‘গুন্ডামি’ বা দাদাগিরি এবার আর এই বাংলায় বরদাস্ত করা হবে না।শনিবার ফলতায় বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডার সমর্থনে আয়োজিত বিশাল নির্বাচনী জনসভা থেকে তৃণমূলের স্থানীয় প্রভাবশালী নেতা তথা প্রার্থী জাহাঙ্গির খানকে তীব্র আক্রমণ শানান তিনি। সম্পূর্ণ আইনি এবং প্রশাসনিক পরিধির মধ্যে থেকেই কড়া ভাষায় তৃণমূলের এই ‘বাহুবলী’ সংস্কৃতিকে নিশানা করেন রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান।

জনসভায় বক্তব্য রাখার সময় মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সরাসরি প্রশ্ন তোলেন এলাকার বিতর্কিত রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে। তৃণমূলের প্রার্থীকে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “কোথায় ওই ডাকাতটা, পুষ্পা না কী যেন নাম!” মূলত এলাকার রাজনৈতিক স্তরে চলে আসা ভয়ের পরিবেশকে উপড়ে ফেলতেই এই ঝাঁঝালো আক্রমণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। শুধুমাত্র মুখের কথা নয়, সুনির্দিষ্ট তথ্য তুলে ধরে তিনি মনে করিয়ে দেন যে, ২০২১ সালের ভোট-পরবর্তী হিংসার ঘটনার প্রেক্ষিতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (NHRC) যে ১৯ জন “কুখ্যাত অপরাধী” বা নটোরিয়াস ক্রিমিনালের তালিকা প্রকাশ করেছিল, তার মধ্যে এই জাহাঙ্গির খানের নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই দাপুটে নেতা ও তাঁর অনুগামীদের কারণে সাধারণ মানুষ যেভাবে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন, তার তীব্র নিন্দা করেন তিনি।”

শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট বার্তা দেন যে, এবার বাংলায় প্রকৃত আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি জোরের সঙ্গে বলেন, সাধারণ নির্বাচনের সময় সাধারণ ভোটার এবং বিজেপি কর্মীদের ওপর যত অত্যাচার বা বেআইনি হিংসার ঘটনা ঘটেছে, তার প্রত্যেকটির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ফলতার মাটিতে আর কোনও সমাজবিরোধী কার্যকলাপ চলতে দেওয়া হবে না। এলাকায় শান্তি বজায় রাখা এবং দোষীদের আইনের কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর সম্পূর্ণ প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব এখন তাঁর সরকারের। বিরোধীদের ভয় দেখাতে বাড়িতে “সাদা থান” পাঠিয়ে দেওয়ার যে অপসংস্কৃতি শাসকদল কায়েম করেছিল, তার অবসান ঘটবে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই হাই-ভোল্টেজ সভার মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই বড়সড় পদক্ষেপ নেয় প্রশাসন। জাহাঙ্গির খানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সহযোগী তথা ফলতা পঞ্চায়েত সমিতির সহ-সভাপতি সাইদুল খানকে খুনের চেষ্টা ও এলাকায় হিংসা ছড়ানোর সুনির্দিষ্ট অভিযোগে গ্রেফতার করে পুলিশ। রাজ্যে নতুন সরকার গঠনের পর এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, ফলতায় আইনের রাশ শক্ত হতে শুরু করেছে এবং তৃণমূলের তথাকথিত ক্ষমতার ভিত নড়বড়ে হয়ে পড়েছে।সমাবেশের শেষলগ্নে ফলতার জন্য বিশেষ উন্নয়ন প্যাকেজের ঘোষণা করার পাশাপাশি আগামী ২১ মে হতে চলা পুনর্নির্বাচনে পদ্ম শিবিরকে ১ লক্ষের বেশি ভোটের মার্জিনে জয়ী করার ডাক দেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ফলতার এই সভা থেকে যেভাবে সুনির্দিষ্ট আইনি রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে তৃণমূলের ভোট-লুটেরাদের ব্যাকফুটে ঠেলে দেওয়া হলো, তা আগামী দিনে এই জনপদের রাজনৈতিক সমীকরণ সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে।

Exit mobile version