প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-অন্নপূর্ণা যোজনায় ‘ধর্ম-বর্ণ’ যাচাইয়ের যে গুরুতর অভিযোগ রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তুলেছিলেন, তা সম্পূর্ণ নস্যাৎ করে নজিরবিহীন কড়া ভাষায় পাল্টা জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার বিকেলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফেসবুক লাইভে করা সমস্ত দাবিকে এক লহমায় উড়িয়ে দিয়ে নবান্ন থেকে সরাসরি অন্নপূর্ণা যোজনার উপভোক্তাদের আসল সরকারি খতিয়ান ও পরিসংখ্যান তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তৃণমূল নেত্রীকে তীব্র কটাক্ষ করে শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানান, সরকারি প্রকল্পে কোনও রকম ধর্মীয় বা জাতিগত ভেদাভেদ করা হচ্ছে না এবং নিয়মানুযায়ী প্রকৃত যোগ্যরাই এই সুবিধা পাচ্ছেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈষম্যের অভিযোগের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট তথ্য পেশ করে বলেন, “এখনও পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৪৬ লক্ষের অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণার টাকা গিয়েছে। এর মধ্যে মুসলিম উপভোক্তারাও রয়েছেন। প্রায় ১৯ লক্ষ মুসলিম পরিবারের অ্যাকাউন্টে টাকা গিয়েছে।” প্রকল্পের স্ক্রুটিনি বা যাচাই পর্ব নিয়ে নবান্নের অবস্থান স্পষ্ট করে মুখ্যমন্ত্রী পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে বলেন, “সব জায়গাতেই তো যোগ্য-অযোগ্য থাকে। উনি কেন ২৫ থেকে ৬০ করেছিলেন?” সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মৃত ব্যক্তি বা ভুয়া আবেদনকারীদের তালিকা থেকে বাদ দিতেই এই আইনি যাচাই প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে, যার সঙ্গে ধর্ম বা জাতের কোনও সম্পর্ক নেই।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে ঘরের ভেতর থাকার পরামর্শ দিয়ে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ভাষায় শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আপনি ফেসবুকে থাকুন, আপনাকে রাস্তায় বের হওয়ার প্রয়োজন নেই। বারুইপুরে গিয়েছিলেন গোল খেয়ে বাড়ি এসেছেন। কথা কম বলুন, বিশ্রাম করুন।” মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া ও তথ্যভিত্তিক বিবৃতির পর রাজনৈতিক মহলের মতে, অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে বিরোধী শিবির জলঘোলা করার চেষ্টা করলেও রাজ্য সরকার নিয়মের কড়াকড়ি বজায় রেখেই ভুয়ো আবেদনকারীদের বাদ দেওয়ার কাজ জারি রাখবে।
