Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

রাজপথে ‘জনশূন্য’ ধর্না, ক্ষয়িষ্ণু রাজনীতির কঙ্কালসার রূপ: মমতাকে তীক্ষ্ণ কটাক্ষ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬ সালের ঐতিহাসিক পালাবদলের পর বাংলার রাজনৈতিক ক্যানভাসে এখন এক নতুন সমীকরন। একদা যে নেত্রীর একটি ডাকে কলকাতার রাজপথ অবরুদ্ধ হয়ে যেত, আজ সেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্নামঞ্চেই চোখে পড়ল এক চরম রাজনৈতিক শূন্যতা। ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর এই আকস্মিক অবস্থান বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে এক তীব্র সমালোচনার আবহ। আর এই সুযোগেই রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত ক্ষুরধার আক্রমণ শানিয়েছেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সভাস্থলের কঙ্কালসার রূপকে ইঙ্গিত করে শুভেন্দু অধিকারীর সংক্ষিপ্ত কিন্তু তীক্ষ্ণ বাণ—”দলটার এত দুরবস্থা জানতাম না”।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মঙ্গলবারের এই ধর্নামঞ্চ আসলে একটি রাজনৈতিক দলের জনভিত্তি ক্ষয়ের এক বাস্তব দলিল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত বাস্তবসম্মত উপহাসের সুরে দাবি করেন, সভাস্থলে সর্বসাকুল্যে ১৫০ জন কর্মীও উপস্থিত ছিলেন না। বিপরীতে, সেই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করতে উপস্থিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের সংখ্যাই ছিল প্রায় ২০০-র কাছাকাছি। একটি প্রথম সারির রাজনৈতিক দলের এই ‘কর্মী-খরা’ তাদের বর্তমান সাংগঠনিক দেউলিয়া দশাকেই স্পষ্ট করে দেয়। আইনের শাসন যে সবার জন্য সমান, তা এই ঘটনার প্রশাসনিক পদক্ষেপে স্পষ্ট। পুলিশি নিয়ম মেনে লাউডস্পিকার ব্যবহারের অনুমতি মেলেনি। ফলে হ্যান্ড মাইকে বক্তব্য রাখতে বাধ্য হন বিরোধী নেত্রী।

রাজনৈতিক মহলের মতে, নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখানোর পুরনো অভ্যাসে ধাক্কা লাগাতেই এই ধর্না এখন স্রেফ প্রচারের আলোয় থাকার মরিয়া চেষ্টা। জেড প্লাস নিরাপত্তা প্রত্যাহার বা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করার যে সমস্ত অভিযোগ বিরোধী শিবির তুলছে, ওয়াকিবহাল মহলের মতে, তা সম্পূর্ণ প্রশাসনিক নিয়ম মেনেই করা হয়েছে। একে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়ে সাধারণ মানুষের সহানুভূতি পাওয়ার চেষ্টা করা হলেও, তা সফল হচ্ছে না। উল্টে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের অনুপস্থিতি ও অসুস্থতার তত্ত্ব ভেতরের ফাটলকেই প্রকাশ্যে এনে ফেলেছে।

গণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের পর বাংলার মানুষ যে আর রাস্তা অবরোধ, বিশৃঙ্খলা বা নিত্যদিনের ধর্নার রাজনীতি পছন্দ করছেন না, তা ধর্মতলার শূন্য চেয়ারগুলোই প্রমাণ করে দিচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই আক্রমণাত্মক অথচ আইনি ও রাজনৈতিক পরিভাষায় নিখুঁত বক্তব্য আসলে একটি যুগের অবসান এবং আইনের শাসনের পুনঃপ্রতিষ্ঠার বার্তাই বহন করছে।

Exit mobile version