Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

“পুলিশকে না জানিয়ে চোরের মতো কেন গেলেন?” হালিশহরের গণরোষ নিয়ে মমতাকে সরাসরি তুলোধোনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-হালিশহরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি ঘিরে সাধারণ মানুষের তুমুল বিক্ষোভের ঘটনায় তৃণমূলের সমস্ত নাটকীয় অভিযোগ এক ফুঁয়ে উড়িয়ে দিলেন পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, হালিশহরের এই অপ্রীতিকর ঘটনায় বিজেপির কোনও হাত নেই। সেখানে কোনও দলীয় পতাকা ছিল না, ওটা ছিল স্রেফ বঞ্চিত, শোষিত মানুষের “স্বতঃস্ফূর্ত গণরোষ”। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তীব্র আক্রমণ শানিয়ে বলেন, “এতদিন ধরে যারা বাংলার মানুষের টাকা চুরি করেছেন, তারা এলাকায় গেলে সাধারণ মানুষের থেকে ‘চোর’ স্লোগান তো শুনতেই হবে! চোরের মায়ের আবার বড় গলা কিসের? তাছাড়া উনি পুলিশকে না জানিয়ে, কোনও প্রোটোকল না মেনে চোরের মতো কেন ওভাবে ওখানে গেলেন?” শুভেন্দু আরও যোগ করেন, আর জি কর কাণ্ডের মতো নারকীয় ঘটনার পর ওঁর উচিত ছিল নির্যাতিতার পরিবারের কাছে গিয়ে হাত জোড় করে ক্ষমা চাওয়া, তা না করে উনি এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর রাজনীতি করতে গিয়েছেন এবং সাধারণ মানুষ তার যোগ্য জবাব দিয়েছে।

সোজা কথায় যাকে বলে ‘এক্কেবারে মোক্ষম ঘা’। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্য প্রশাসনের প্রধান হিসেবে একদম সঠিক এবং আইনি প্রশ্নটাই তুলেছেন। আইন-শৃঙ্খলার দোহাই দিয়ে কান্নাকাটি করার আগে, দেশের আইন ও প্রোটোকল মেনে চলা এক সময়ের মুখ্যমন্ত্রীর কেন মনে থাকল না—সেই প্রশ্নটাই এখন বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কোনো বিরোধী দলকে দোষারোপ করার আগে তৃণমূল নেত্রীর ভাবা উচিত ছিল, পুলিশ প্রোটোকল ছাড়া কেন তিনি একটি সংবেদনশীল এলাকায় হাজির হলেন? বিগত দেড় দশক ধরে বাংলার মানুষ যে কোটি কোটি টাকার শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি, রেশন দুর্নীতি আর কয়লা পাচারের মতো কেলেঙ্কারি মুখ বুজে সহ্য করেছে, তার রাগ যে কতটা গভীর, তা গতকাল হালিশহরের মানুষ বুঝিয়ে দিয়েছে। যখন ক্ষমতার অহংকারে অন্ধ হয়ে বাংলার যুবসমাজের ভবিষ্যৎ চুরি করা হয়, তখন আমজনতা রাস্তায় নেমে হিসাব চাইবেই। আর সেই ক্ষোভের বিচার করতে যখন সাধারণ জনতা ও দেশের আইন একযোগে তৈরি হয়, তখন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষমতার অহংকার যে বালির বাঁধের মতো ভেঙে পড়ে, শুভেন্দুর এই কড়া বয়ান সেটাই আরও একবার প্রমাণ করল।

তৃণমূল যতই ‘খুনের চক্রান্তের’ সস্তা তত্ত্ব খাড়া করুক না কেন, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই ধারালো যুক্তি জোড়াফুল শিবিরের সমস্ত নাটকীয় চিত্রনাট্যকে ধূলিসাৎ করে দিয়েছে। জনরোষের হাত থেকে বাঁচার জন্য এখন পুলিশের ঘাড়ে দোষ চাপানো ছাড়া তৃণমূলের কাছে আর কোনও পথ খোলা নেই!

Exit mobile version