প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-শিল্প ও সংস্কৃতির মঞ্চ থেকে এবার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বহিরাগত’ রাজনীতির শিকড়ে তীব্র আঘাত করলেন বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। অবাঙালি বা হিন্দিভাষী শিল্পপতিদের নিশানা করে অতীতে তৃণমূল সুপ্রিমো যে ‘বাহারি’ তত্ত্ব খাড়া করেছিলেন, শুক্রবার বাঁকুড়ার মেজিয়ায় তা কার্যত তুলোধোনা করলেন শুভেন্দু। সাফ জানিয়ে দিলেন, এই সংকীর্ণ রাজনীতির কারণেই বাংলা পিছিয়ে পড়েছে, অথচ গুজরাত বা উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলো আজ উন্নয়নের শিখরে। মেজিয়ার শিল্প মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর এই ‘তত্ত্ব বনাম তথ্য’-এর লড়াই ঘিরে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি।
বাঁকুড়ার মেজিয়াতে শ্যাম স্টিলের ১৫,০০০ কোটি টাকার মেগা ইস্পাত কারখানার সম্প্রসারণ প্রকল্পের শিলান্যাস অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ‘আঞ্চলিক ও বহিরাগত’ তাস নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন। শুভেন্দু অধিকারী মনে করিয়ে দেন, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রায়শই হিন্দিভাষী বা ভিনরাজ্যের শিল্পপতিদের ‘বাহারি’ বা বহিরাগত বলে আক্রমণ করতেন। তিনি প্রায়ই বলতেন, ‘বাংলাকে গুজরাত বা উত্তরপ্রদেশ হতে দেব না’।
মমতার সেই মন্তব্যের পাল্টা দিয়ে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী এদিন স্পষ্ট ভাষায় বলেন, আজ দেশের সবচেয়ে বড় বড় মেগা শিল্প ও বিপুল বিনিয়োগ কিন্তু গুজরাত, উত্তরপ্রদেশ কিংবা মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্যগুলোতেই যাচ্ছে। ভুল রাজনীতি করে বাংলার উন্নয়নকে আটকে রাখা হয়েছিল।
মেজিয়ার এই নতুন কারখানার ক্যাম্পাসেই গড়ে উঠেছে রাধামাধব মন্দির এবং গোশালা। পাশাপাশি সেখানে সশ্রদ্ধে বসানো হয়েছে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর মূর্তি। এই প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু বলেন, যেখানে কবিগুরু ও নেতাজির মূর্তি রয়েছে, রাধামাধবের মন্দির রয়েছে, তাকে যেন কেউ ‘বাহারি’ বা বহিরাগত বলে অসম্মান করার ধৃষ্টতা না দেখায়। সংস্কৃতি ও শিল্পের এই মেলবন্ধনই আসল ভারতের রূপ।
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বক্তব্যের মাধ্যমে শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘বাঙালি আবেগ’ ও ‘বহিরাগত’ প্রচারের হাওয়া কেড়ে নিতে চেয়েছেন। একদিকে তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে এই রাজনীতির জন্য শিল্পপতিরা মুখ ফিরিয়েছিলেন, অন্যদিকে কারখানা চত্বরে বাঙালি মণীষীদের মূর্তির প্রসঙ্গ তুলে প্রমাণ করেছেন যে কর্মসংস্থান ও সংস্কৃতি হাত ধরাধরি করেই চলে, সেখানে কোনো বিভেদের জায়গা নেই।
