Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

“নীতিহীন মাফিয়া কোম্পানির কঙ্কালসার চেহারা বেরিয়েছে”—ফলতায় তৃণমূলের জামানত জব্দের পর হুঙ্কার শুভেন্দু অধিকারীর!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের পুনর্নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ হতেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। একদা যে অঞ্চলকে তৃণমূল কংগ্রেস নিজেদের দুর্ভেদ্য দুর্গ বলে দাবি করত, সেখানে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। এই ঐতিহাসিক সাফল্যের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি দীর্ঘ পোস্ট করে তৃণমূলের বহুল চর্চিত সাংগঠনিক রণকৌশলকে নজিরবিহীন ভাষায় বিঁধেছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ফলতার এই রায়কে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত জনাদেশ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তথাকথিত ও কুখ্যাত ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ আসলে এখন “তৃণমূলের হার-বার” মডেলে পরিণত হয়েছে।

নির্বাচনী ফলাফলে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে, ১৯ রাউন্ডের শেষে বিজেপির প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা পেয়েছেন ১ লক্ষ ৩৭ হাজার ৪৭৩ টি ভোট। অন্যদিকে তৃণমূলের প্রার্থী জাহাঙ্গির খান ভোট শতাংশের নিরিখে ব্যাপক পিছিয়ে পড়ে চতুর্থ স্থানে নেমে গিয়েছেন, যার ফলে তাদের জামানত পর্যন্ত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এই অভাবনীয় জয়ের পর ফলতার ভোটারদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী লিখেছেন, “সর্বপ্রথমে আমি ফলতা বিধানসভা আসনের পুনর্নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির প্রার্থী শ্রী দেবাংশু পাণ্ডাকে বিপুল জনাদেশ দিয়ে বিধানসভায় পাঠানোর জন্য ফলতার জনতা-জনার্দন গণদেবতাকে নত মস্তকে প্রণাম জানাই”।

শুভেন্দু অধিকারী তাঁর পোস্টে উল্লেখ করেন যে, তিনি নিজে ফলতার মানুষের কাছে বিজেপি প্রার্থীকে ১ লক্ষেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী করার আবেদন জানিয়েছিলেন। সেই কথা রেখে ফলতার মানুষ জয়ের ব্যবধান ১ লক্ষ ৮ হাজারের গণ্ডি পার করে দিয়েছেন। এই পাহাড়প্রমাণ সমর্থনের প্রত্যুত্তরে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, “আমরা উন্নয়নের মাধ্যমে এই ঋণের প্রতিদান দেব। একটি ‘সোনার ফলতা’ গড়ে তুলতে আমরা সম্পূর্ণ দায়বদ্ধ ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ”।

তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র রাজনৈতিক আক্রমণে ধুয়ে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তাঁর বিবৃতিতে লিখেছেন, নীতি ও আদর্শহীন একটি দল, যা মূলত একটি মাফিয়া কোম্পানিতে রূপান্তরিত হয়েছিল, ক্ষমতা হারানো মাত্রই তার কঙ্কালসার চেহারা আজ সবার সামনে উন্মোচিত হয়ে পড়েছে। তিনি আরও যোগ করেন, অতীতে ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই শক্তি যেভাবে জনগণের তহবিল লুট করেছে, সিন্ডিকেট রাজ চালিয়েছে এবং হুমকির সংস্কৃতি তৈরি করে রাজ্যকে নিজেদের জমিদারী মনে করেছিল, ফলতার সাধারণ মানুষ ব্যালটের মাধ্যমে আজ তার যোগ্য জবাব দিয়েছেন।

রাজনৈতিক মহলের মতে, ফলতার এই পুনর্নির্বাচনের ফলাফল কেবল একটি কেন্দ্রের জয়-পরাজয় নয়, বরং দক্ষিণ ২৪ পরগনা তথা সমগ্র পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তৃণমূলের সাংগঠনিক অস্তিত্বের সংকটের এক স্পষ্ট ইঙ্গিত। অন্যদিকে, বামফ্রন্টের সিপিআই(এম) প্রার্থী এই আসনে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে নিজেদের ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন।

Exit mobile version