Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

‘ক্যা ক্যা ছি ছি’ স্লোগান দিয়ে ভয় দেখানো হয়েছিল, এখন ১৯ হাজার মানুষ নাগরিকত্ব পেয়েছেন: বিধানসভায় সরব মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজ্য বিধানসভার বাজেট অধিবেশনে সিএএ (CAA) ইস্যু নিয়ে পূর্বতন তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ শানালেন পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার বিধানসভার ফ্লোরে দাঁড়িয়ে তিনি দাবি করেন, নাগরিকত্ব সংশোধন আইন নিয়ে অতীতে রাজ্যে যে রাজনৈতিক ভীতি ও বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়েছিল, আজ তা সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। বক্তব্য রাখার সময় মুখ্যমন্ত্রী তথ্য তুলে ধরে জানান, ২০১৯ সালের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন কার্যকর হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গে ১ লক্ষ ২১ হাজার মানুষ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন (পিটিশন) জমা দিয়েছেন। তার মধ্যে ইতিমধ্যেই ১৯ হাজারেরও বেশি শরণার্থী ভারতের বৈধ নাগরিকত্বের শংসাপত্র বা সার্টিফিকেট হাতে পেয়েছেন।

পূর্বতন তৃণমূল সরকারের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা জমিয়ত নেতা সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরীর নাম না করে তাঁকে কড়া ভাষায় বিঁধেছেন মুখ্যমন্ত্রী। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বর্ধমানের মন্তেশ্বর কেন্দ্র থেকে পরাজিত হয়েছিলেন এই ধর্মীয় নেতা। তাঁর প্রসঙ্গ টেনে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “আগের সরকারের একজন মন্ত্রী যিনি মন্তেশ্বরে হেরেছেন, ইনি একজন ধর্মীয় নেতা। বর্ধমানে ছোট ছোট স্কুল-মাদ্রাসার শিশুদের ধর্মীয় পোশাক পরিয়ে রাস্তায় নামানো হয়েছিল। মুসলিমদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হবে— এই মিথ্যে অভিযোগ তুলে বাচ্চাদের ব্যবহার করে রাজনীতি করা হয়েছিল।”

তৎকালীন তৃণমূল সরকারের আন্দোলনকে তীব্র কটাক্ষ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সে সময় বলেছিলেন ক্যা, ক্যা, ছিঃ, ছিঃ। কলকাতার সিঁথির মোড় থেকে শ্যামবাজার পর্যন্ত বিশাল মিছিল করেছিলেন তিনি। সেই সময় সিএএ-এর নাম করে গোটা রাজ্যে এনআরসি-র জুজু দেখানো হয়েছিল।”

মুখ্যমন্ত্রী আরও যোগ করেন যে, রাজনৈতিক স্বার্থে সাধারণ মানুষের মধ্যে ডিটেনশন ক্যাম্পের যে ভয় ছড়ানো হয়েছিল, তার কোনো ভিত্তি ছিল না। আজ হাজার হাজার মানুষ কোনো হেনস্থা ছাড়াই স্বতঃস্ফূর্তভাবে নাগরিকত্ব পাচ্ছেন এবং আগের সরকারের তৈরি করা মিথ্যে প্রচারের বেলুন পুরোপুরি ফেটে গেছে।

অধিবেশনের এই পর্বে মুখ্যমন্ত্রীর এই আক্রমণাত্মক ভাষণের সময় শাসক ও বিরোধী বেঞ্চের মধ্যে তীব্র রাজনৈতিক চাপানউতোর তৈরি হয়। রাজনৈতিক মহলের মতে, ২০২৬ সালের মে মাসে রাজ্যে ঐতিহাসিক পটপরিবর্তনের পর, সিএএ এবং অনুপ্রবেশের মতো স্পর্শকাতর ইস্যুতে বিজেপি সরকার যে জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে এগোবে, আজ বিধানসভার ফ্লোর থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সেই বার্তাই স্পষ্ট করে দিলেন।

Exit mobile version