Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

“শ্যামাপ্রসাদ না থাকলে আজ এই অস্তিত্বই থাকত না!” নতুন বিধায়কদের সামনে দাঁড়িয়ে অতীতকে তীব্র তোপ মুখ্যমন্ত্রীর!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান না থাকলে আজ ভারতের মানচিত্রে পশ্চিমবঙ্গের এই ভৌগোলিক ও সাংবিধানিক অস্তিত্বই থাকত না। শুক্রবার নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে ১৮তম বিধানসভার নবনির্বাচিত বিধায়কদের জন্য আয়োজিত বিশেষ ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রামের উদ্বোধনী অধিবেশন থেকে এভাবেই ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে বাংলার আইনসভার হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার এবং সংসদীয় কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের ডাক দিয়ে বিগত সরকারের শাসনকালকে বেনজির ভাষায় আক্রমণ করেন তিনি।

উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিগত সরকারের আমলে এ রাজ্যে এক অদ্ভুত ও বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা তৈরি হয়েছিল। জনপ্রতিনিধিদের সাংবিধানিক অধিকার ও মর্যাদাকে কার্যত ধুলোয় মিশিয়ে দেওয়া হয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এখানে পরিস্থিতি এমন স্তরে পৌঁছেছিল যে থানার সামান্য একজন আধিকারিক (IC বা OC) পর্যন্ত বিধায়ক-সাংসদদের ফোন ধরার সৌজন্য দেখাতেন না।” বিরোধী দলের বিধায়কদের সরকারি কোনো কর্মসূচিতে আমন্ত্রণ জানানো হতো না এবং রাজনৈতিক পরিচয় দেখে প্রতিনিয়ত বৈষম্য করা হতো বলেও তোপ দাগেন তিনি।

আইনসভার ভেতরে বিরোধী কণ্ঠস্বরকে চেপে দেওয়ার অতীত মানসিকতা নিয়েও সরব হন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি নিজের অভিজ্ঞতা টেনে বলেন যে, বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন তাঁকে ও তাঁর দলের বিধায়কদের কীভাবে একের পর এক অধিবেশনে দিনের পর দিন অন্যায়ভাবে সাসপেন্ড করে রাখা হতো। বর্তমান সরকারের শাসনকালে এমন প্রতিহিংসামূলক রাজনীতির কোনো স্থান থাকবে না এবং বিধানসভার ভেতরে প্রতিটি কণ্ঠস্বরকে যথাযথ মর্যাদা দেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।

নবনির্বাচিত ১৮১ জন নতুন বিধায়কদের সংসদীয় রাজনীতির রীতিনীতি শেখার আহ্বান জানানোর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের মনে করিয়ে দেন যে, যে আইনসভায় তাঁরা পা রাখছেন, তার একটি ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। আর সেই সূত্রেই ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদানকে সম্মানের সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, কেন্দ্রীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু এবং রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশের উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন যে, অতীত সরকারের ভুলত্রুটি থেকে শিক্ষা নিয়ে এই বিধানসভাকে আবার এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়াই বর্তমান প্রশাসনের মূল লক্ষ্য।

Exit mobile version