প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-মেদিনীপুরের চাঞ্চল্যকর শালবনি জমি দুর্নীতি মামলায় তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত সহায়ক (PA) সুমিত রায় গ্রেফতার হতেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল। সুমিতের গ্রেফতারির খবর সামনে আসতেই আজ খোদ রাজ্য বিধানসভার অধিবেশন কক্ষে দাঁড়িয়ে এই নিয়ে সরাসরি বড় ঘোষণা ও প্রতিক্রিয়া দিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ধৃত সুমিত রায়কে তীব্র আক্রমণ করে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “এক প্রসিদ্ধ তোলাবাজ গ্রেফতার হয়েছে।”
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে দেশের সর্বোচ্চ আদালত সুপ্রিম কোর্টে সুমিত রায়ের আগাম জামিনের আবেদন খারিজ হতেই নজিরবিহীন তৎপরতায় মাঠে নামে রাজ্য সিআইডি (CID) ও এসটিএফ (STF)। কালীঘাটের ১২১ নম্বর রোড সংলগ্ন তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যালয় তথা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। স্বরাষ্ট্র দফতরের দায়িত্বে থাকা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভায় অধিবেশন চলাকালীনই এই হাইপ্রোফাইল গ্রেফতারির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে সকলের সামনে তুলে ধরেন।
বিধানসভার অধিবেশনে বক্তব্য রাখার সময় মুখ্যমন্ত্রী জানান, “এক প্রসিদ্ধ তোলাবাজ সুমিত রায়কে ১২১ কালীঘাট রোডের তৃণমূল কংগ্রেস কার্যালয় থেকে সিআইডি গ্রেফতার করেছে।” তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, রাজ্যে নতুন বিজেপি সরকারের অধীনে আইন সবার জন্য সমান এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রশাসন তার জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখবে। আদালতের আইনি সবুজ সংকেত মেলার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে যেভাবে পুলিশ এই প্রভাবশালী অভিযুক্তকে হেফাজতে নিয়েছে, তাকে সরকারের একটি বড় প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহল।
শালবনিতে জালিয়াতির মাধ্যমে সরকারি জমি কেনাবেচা এবং প্রায় ১৫ কোটি টাকার রহস্যজনক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে সুমিত রায়ের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের রক্ষাকবচ উঠতেই সিআইডি তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেয়। কালীঘাট থেকে সুমিতকে গ্রেফতার করার পর কড়া নিরাপত্তায় সরাসরি নিয়ে যাওয়া হয় সিআইডি-র সদর দফতর ভবানী ভবনে…। সেখানে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর নিয়মমাফিক স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালে। সিআইডি সূত্রে খবর, ট্রানজিট রিমান্ডের প্রক্রিয়া সেরে আগামীকাল অর্থাৎ শুক্রবার তাঁকে মেদিনীপুর জেলা আদালতে পেশ করা হবে।
