Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

কালো টাকা ও জালিয়াতিমুক্ত নতুন বাংলা! শিল্পপতিদের প্রোফাইল স্ক্যান করতে কড়া ‘ক্লিন-চিট’ নীতি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পশ্চিমবঙ্গে এবার থেকে স্রেফ মোটা অঙ্কের টাকা থাকলেই বিনিয়োগের ছাড়পত্র মিলবে না। খতিয়ে দেখা হবে টাকার উৎস এবং খোদ বিনিয়োগকারীর অতীত ট্র্যাক রেকর্ড। শুক্রবার নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারে শিল্পমহলকে এক নজিরবিহীন ও চরম বার্তা দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, কোনো দাগি অপরাধী বা আর্থিক কেলেঙ্কারিতে যুক্ত ব্যক্তির নোংরা টাকায় বাংলার মাটি অপবিত্র হতে দেওয়া হবে না। রাজ্যে শিল্পের লাইসেন্স পেতে গেলে পরিষ্কার ও নিষ্কলঙ্ক ভাবমূর্তি থাকা বাধ্যতামূলক।

বিগত দিনে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে ধোঁকা দিয়ে, জনগণের আমানত লুট করে বহু কর্পোরেট সংস্থা রাজত্ব চালিয়েছে। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারীর সুশাসনে বাংলায় তার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যারা ব্যাংক জালিয়াতি বা বড় ধরনের আর্থিক দুর্নীতির (Bank Scams & Financial Fraud) সাথে যুক্ত, তারা পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগের কথা ভাবতেও পারবেন না। বাংলার শিল্প-মানচিত্রকে পুরোপুরি কলঙ্কমুক্ত রাখতে স্ক্রিনিং আরও জোরদার করা হচ্ছে।

শিল্পের নাম করে জমি হাতিয়ে নেওয়া, জমি মাফিয়াদের দাপট কিংবা ল্যান্ড স্ক্যামের দিন এবার শেষ হতে চলেছে। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, যারা জমি জালিয়াতির সাথে কোনোভাবে জড়িত বা যাদের বিরুদ্ধে কোনো চিটফান্ড বা আর্থিক তছরুপের অভিযোগ রয়েছে, তাদের কোনো বিনিয়োগ প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে না। কর্পোরেট দুনিয়ার অসাধু চক্রকে উচ্ছেদ করে এক স্বচ্ছ, আইনি এবং আন্তর্জাতিক মানের ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ তৈরি করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া নীতির পেছনে রয়েছে এক সুদূরপ্রসারী আর্থিক পরিকল্পনা। সরকার চায়, যে সমস্ত সৎ এবং নামী শিল্পগোষ্ঠী সততার সাথে ব্যবসা করতে চায়, তারা যেন বাংলায় এসে কোনো তোলাবাজি বা নোংরা প্রতিযোগিতার মুখে না পড়ে। বিনিয়োগকারীদের টাকা যেমন সুরক্ষিত থাকবে, তেমনই রাজ্যের যুবকদের কর্মসংস্থানও কোনো অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে না। সততাই হবে বাংলায় ব্যবসা করার একমাত্র পাসপোর্ট।

স্রেফ শিল্পের সংখ্যা বাড়ানো নয়, বরং গুণগত এবং পরিচ্ছন্ন শিল্পায়নের এক নতুন ব্লু-প্রিন্ট আজ পেশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। দুর্নীতিগ্রস্ত ও কালিমালিপ্ত পুঁজিপতিদের ছেঁটে ফেলে এই আর্থিক শুদ্ধিকরণের নীতি বাংলায় কতটা কার্যকরী হয়, এখন সেটাই দেখার। তবে বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারের এই কড়া বার্তা যে অনেক অসাধু রাঘববোয়ালের ঘুম উড়িয়ে দিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।

Exit mobile version