Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

শিল্পের নামে জমি আটকে রাখার দিন শেষ! ‘ল্যান্ড লুটেরা’ ও মাফিয়াদের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি অ্যাকশনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু!

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-কারখানা গড়ার নাম করে সস্তায় সরকারি বা কৃষকদের জমি হাতানো হয়েছে, অথচ বছরের পর বছর সেখানে গজিয়ে উঠেছে স্রেফ আগাছা কিংবা প্রোমোটিংয়ের ছক— পশ্চিমবঙ্গে এই চেনা ছবিটা এবার চিরতরে বদলে যেতে চলেছে। শুক্রবার নিউটাউনের বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টার থেকে রাজ্যের তথাকথিত ল্যান্ড মাফিয়া ও ফাঁকিবাজ পুঁজিপতিদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর সাফ বার্তা, শিল্পের নামে জমি আটকে রেখে ফেলে রাখার কারবার আর বরদাস্ত করবে না নতুন সরকার।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আজ স্পষ্ট করে দিয়েছেন, রাজ্যে শিল্পের জন্য জমি নিয়ে যারা কোনো কাজ না করে স্রেফ ‘হোল্ড’ করে রেখে দিয়েছেন বা জমি নিয়ে বসে আছেন, তাদের ওপর এবার সরকারের কড়া নজরদারি শুরু হচ্ছে। প্রশাসনের শীর্ষ স্তরকে ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কারখানায় উৎপাদন শুরু না হলে বা কর্মসংস্থান না তৈরি হলে, সেই জমি ফেলে রাখার কোনো অধিকার কারও নেই।

দীর্ঘদিন ধরে বাংলায় একটা ট্রেন্ড দেখা গিয়েছে— শিল্পের লাইসেন্স নিয়ে জমি লিজ নেওয়া এবং পরে সেই জমির চরিত্র বদল করে রিয়েল এস্টেট বা সিন্ডিকেটের কারবার চালানো। মুখ্যমন্ত্রী আজ এই চক্রের মূলে আঘাত করেছেন। তাঁর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, যারা শিল্পের ভেক ধরে জমির কালোবাজারি করছেন, তাদের ছাড় দেওয়া হবে না। জমি যদি অব্যাবহৃত অবস্থায় পড়ে থাকে, তবে সরকার সেই জমি আইনানুগভাবে পুনর্বিবেচনা করবে এবং প্রকৃত কর্মসংস্থানমুখী শিল্পের জন্য তা ব্যবহার করা হবে।

সরকারের এই অনমনীয় অবস্থানের উদ্দেশ্য খুবই পরিষ্কার— যারা সৎভাবে বাংলায় কারখানা গড়তে চান, জমির অভাবে যেন তাদের ফিরে যেতে না হয়। যারা জমি আটকে রেখেছেন, তাদের থেকে জমি উদ্ধার করে বা চিহ্নিত করে নতুন এবং জেনুইন শিল্পপতিদের হাতে তুলে দেওয়া হবে। এর ফলে একধিকে যেমন জমির অপচয় বন্ধ হবে, অন্যদিকে তেমনই দ্রুত গতিতে চাঙ্গা হবে রাজ্যের অর্থনীতির চাকা।

স্রেফ মুখের কথায় বা ফাইলের লাল ফিতেয় নয়, এবার সরাসরি মাঠের জমিতে নেমে অ্যাকশনের ইঙ্গিত দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শিল্পের নামে ‘ল্যান্ড ব্যাঙ্ক’ বানিয়ে রাখা মাফিয়াদের এই আলটিমেটাম দেওয়ার পর নবান্নের তরফ থেকে কী ধরনের প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেটাই এখন দেখার। তবে বিশ্ববাংলা কনভেনশন সেন্টারের এই কড়া বার্তার পর, জমির চোরাকারবারিদের বুকে যে কাঁপন ধরেছে, তা নিশ্চিত।

Exit mobile version