প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-রাজধানী দিল্লির ক্ষমতার অলিন্দ থেকে কলকাতা—হঠাৎই এক জোরালো রাজনৈতিক ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক ও হাই-প্রোফাইল সাক্ষাৎ ঘিরে গত চব্বিশ ঘণ্টায় তৈরি হয়েছিল তুমুল জল্পনা। রাজনৈতিক মহলে কান পাতলেই শোনা যাচ্ছিল এক নতুন সমীকরণের গুঞ্জন। তবে সেই জল্পনার পারদ যখন আকাশছোঁয়া, ঠিক তখনই আসরে নেমে এক নজিরবিহীন বিস্ফোরণ ঘটালেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। সাফ জানিয়ে দেওয়া হলো, দলবদলু ও সুবিধাবাদীদের জন্য পদ্ম শিবিরের দরজা এখন চিরতরে বন্ধ।
ঘটনার সূত্রপাত দেশের রাজধানী দিল্লিতে। সেখানে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে হঠাৎই এক ফ্রেমে দেখা যায় তৃণমূলের হেভিওয়েট বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই রাজ্য রাজনীতিতে তোলপাড় শুরু হয়। এর ঠিক পরপরই বিনোদন জগতের পরিচিত মুখ অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক কিছু ‘সুরবদল’ সেই জল্পনার আগুনে যেন পেট্রোল ঢেলে দেয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ ধরে নিয়েছিলেন, হয়তো আবারও নেপথ্যে কোনো বড় ধরনের দলবদল বা ‘মেগা জয়েনিং’-এর সলতে পাকানো হচ্ছে। তৃণমূল শিবিরের এই হেভিওয়েটদের নিয়ে যখন সামাজিক মাধ্যম থেকে শুরু করে চায়ের দোকান—সর্বত্র তুমুল চর্চা, ঠিক তখনই দলের অবস্থান ১০০ শতাংশ স্পষ্ট করতে ময়দানে নামেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। কোনো রকম কূটনৈতিক ভাষা ব্যবহার না করে, অত্যন্ত কড়া সুরে তিনি এক লাইনে সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দেন। শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “বিজেপিতে কোনো ঋতব্রত, কোনো সত্যব্রত, কোনো পরমব্রত কিংবা কোনো চিত্রব্রতদের জায়গা এখন নেই। এদের জন্য দরজা পুরোপুরি বন্ধ। কারা এই সব জল্পনা উস্কে দিচ্ছেন তারাই বলতে পারেন, এসব নিয়ে চিন্তাভাবনা করার সময় বিজেপির নেই।”
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, বিজেপির এই চরম ও অনমনীয় অবস্থানের পিছনে রয়েছে এক গভীর সুচিন্তিত কৌশল। দলীয় সূত্রে খবর, মূলত তিনটি বড় কারণে বিজেপি এবার অনেক বেশি রক্ষণাত্মক ও সতর্ক। বিগত নির্বাচনগুলির অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েছে পদ্ম শিবির। বাইরে থেকে অন্য দলের নেতাদের এনে বসিয়ে দিলে দলের আদি ও একনিষ্ঠ কর্মীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তাই এবার স্পষ্ট বার্তা—দলের আদি কর্মীদের ভাবাবেগকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, বিজেপি আজ যে জায়গায় পৌঁছেছে, তা কোনো ধার করা নেতার জোরে নয়। বুথ স্তর থেকে রক্ত-ঘাম ঝরানো ‘হার্ডকোর’ কর্মীদের লড়াইয়ের ওপর ভিত্তি করেই দল দাঁড়িয়ে আছে। সুতরাং, বাইরে থেকে কাউকে ‘ইম্পোর্ট’ করার কোনো প্রয়োজন নেই। ক্ষমতার পরিবর্তন বা হাওয়ার গতি দেখে যারা ঘনঘন নিজেদের রাজনৈতিক রঙ পরিবর্তন করেন, সেইসব সুবিধাবাদীদের আর কোনোভাবেই দলে পুনর্বাসন দেওয়া হবে না।
শুধু দলবদলুদের প্রবেশাধিকার বন্ধ করাই নয়, দলের অন্দরে শৃঙ্খলা বজায় রাখতেও কড়া বার্তা দিয়েছেন রাজ্য সভাপতি। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছেন, বিজেপির পতাকা হাতে নিয়ে যদি কেউ কোথাও কোনো রাজনৈতিক হিংসা ছড়ানোর চেষ্টা করে কিংবা কোনো বিরোধী দলের কার্যালয়ে আক্রমণ চালায়, তবে দল তাকে এক মুহূর্তও বরদাস্ত করবে না এবং তৎক্ষণাৎ বহিষ্কার করবে।
শমীক ভট্টাচার্যের এই নজিরবিহীন ও কড়া বার্তার পর এটুকু স্পষ্ট যে, বঙ্গ বিজেপির অন্দরে এখন বহিরাগতদের প্রবেশাধিকার পুরোপুরি নিষিদ্ধ। দিল্লির ওই সাক্ষাতের পর যারা নতুন কোনো রাজনৈতিক নাটকের অপেক্ষায় ছিলেন, বিজেপির এই ‘মেগা স্ট্রাইক’-এর পর তাঁদের সমস্ত আশায় জল পড়ে গেল। এখন দেখার, বিজেপির এই কড়া অবস্থানের পর তৃণমূলের অন্দরে এর কী প্রতিক্রিয়া হয়।
