প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২১-এর নন্দীগ্রামের সেই ঐতিহাসিক হার কি আজও তাড়া করে বেড়াচ্ছে তৃণমূল নেত্রীকে? ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুরের মাটিতে যখন শুভেন্দু অধিকারীর জয়ধ্বনি শোনা যাচ্ছে, ঠিক তখনই বামেদের পক্ষ থেকে আইনজীবী শ্রীজীব বিশ্বাসের প্রার্থী পদ ঘোষণা নিয়ে দানা বাঁধছে রহস্য। রাজনৈতিক মহলের বড় অংশের প্রশ্ন— শুভেন্দুর নিশ্চিত জয় রুখতে এবার কি তবে ‘সেটিং’ রাজনীতির শেষ আশ্রয় নিচ্ছে ঘাসফুল শিবির? কেননা গত ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের বিধানসভাওয়ারী পরিসংখ্যান বলছে, ভবানীপুর বিধানসভার ২৬৯টি বুথের মধ্যে ১৪৯টি বুথেই বিজেপি এগিয়ে রয়েছে। অর্থাৎ, খাস কলকাতায় নিজের পাড়াতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন সংখ্যালঘু। বিরোধী ভোট এককাট্টা হলে পিসির হার নিশ্চিত— এই গাণিতিক সত্যটা বুঝেই কি সিপিএম-এর সঙ্গে তলে তলে হাত মেলাল নবান্ন? এই প্রশ্নই এখন ভবানীপুরের অলিতে গলিতে। বলা বাহুল্য, ২০২১-এর উপনির্বাচনে এই শ্রীজীব বিশ্বাসই লড়েছিলেন। কিন্তু তাঁর প্রাপ্ত ভোট ছিল মাত্র ৪,২২৬টি (৩.৫৬%)। আবারও সেই ‘ফ্লপ’ মুখকে সামনে এনে বিরোধী হিন্দু ভোট কাটতেই কি এই সুপরিকল্পিত ছক?
শুভেন্দু অধিকারী ইতিমধ্যেই চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছেন যে, ভবানীপুর থেকে মমতাকে বিদায় করে তিনি গেরুয়া আবির উড়াবেন। বিজেপির অন্দরের খবর, নন্দীগ্রামের পর এবার ভবানীপুরেও ‘জায়ান্ট কিলার’ হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে শুভেন্দুর এই আত্মবিশ্বাস দেখে তৃণমূলের অন্দরে কম্পন শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের দাবি, ভোটারদের বিভ্রান্ত করতে এবং বিজেপির নিরেট ভোটব্যাঙ্কে থাবা বসাতে শ্রীজীবের মত ‘নন-এন্টিটি’কে ময়দানে নামিয়ে আদতে তৃণমূলকে অক্সিজেন দেওয়ার চেষ্টা করছে আলিমুদ্দিন। প্রশ্ন উঠছে, যে সিপিএম সারাদিন তৃণমূলের দুর্নীতির বিরুদ্ধে গলা ফাটায়, তারাই কেন এমন একজনকে প্রার্থী করল যাঁর জামানত গতবার বাজেয়াপ্ত হয়েছিলো? তবে কি শুভেন্দুর জয় আটকাতে দিদি আর বামেরা এখন ‘ভাই-ভাই’? ভবানীপুরের সচেতন ভোটাররা কিন্তু এই লুকোচুরি খেলা ধরে ফেলেছেন। সূত্রের দাবি, শ্রীজীবের লড়াই আসলে লড়াই নয়, বরং শুভেন্দুর ভোট কেটে মমতাকে বৈতরণী পার করানোর এক ব্যর্থ প্রচেষ্টা মাত্র।
নির্বাচন কমিশনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-এর উপনির্বাচনে শ্রীজীবের প্রাপ্ত ভোট ছিল নগণ্য। এবার যখন ভবানীপুরের হিন্দু ও সংখ্যালঘু ভোটের মেরুকরণ স্পষ্ট, তখন শ্রীজীবের অন্তর্ভুক্তি কেবল ‘ভোট কাটার রাজনীতি’ ছাড়া আর কিছুই নয় বলে মনে করছে রাজনৈতিক বোদ্ধারা। শুভেন্দু অধিকারীর শক্তিশালী সাংগঠনিক শক্তির সামনে এই ধরণের ‘গট-আপ’ গেম কতটা টিকবে, সেটাই এখন দেখার। এখন ভবানীপুরের সচেতন ভোটাররা কি শেষমেশ এই বাম-তৃণমূলের ছায়াযুদ্ধ ধরতে পারবেন? নাকি শুভেন্দু অধিকারীর জয়ের রথ মমতার ঘরের মাঠে নতুন ইতিহাস লিখবে? জবাব মিলবে আগামী ৪ঠা মে। তবে প্রাথমিক হাওয়া বলছে, ভবানীপুরে এবার পদ্ম ফুটতে চলায় সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে তথাকথিত ‘লাল দুর্গ’।
