প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-চৈত্র শেষের তপ্ত দুপুরে মেদিনীপুরের রাজনৈতিক পারদ এক ধাক্কায় কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। নিছক কোনো রাজনৈতিক সভা নয়, বরং সতীর্থ দিলীপ ঘোষের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আবহে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু যা দাবি করলেন, তাতে এখন রীতিমত শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। মেদিনীপুর থেকে জঙ্গলমহল—শুভেন্দুর করা এক ‘গাণিতিক সমীকরণ’ এখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের গতিতে ভাইরাল। ঠিক কী ঘটেছে?
গতকাল দিলীপ ঘোষের মনোনয়ন ঘিরে মেদিনীপুর শহরে উপচে পড়া ভিড় ছিল চোখে পড়ার মত। সেই ভিড়ের মাঝেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন শুভেন্দু অধিকারী। আর সেখানেই তিনি মেদিনীপুর ও জঙ্গলমহল অঞ্চলের ভোট অঙ্ক নিয়ে একের পর এক চাঞ্চল্যকর দাবি পেশ করেন। বিরোধী দলনেতার সাফ কথা, অবিভক্ত মেদিনীপুরের সিংহভাগ আসনেই জয়ের কাজ ‘সম্পন্ন’ করে ফেলেছে গেরুয়া শিবির। নির্দিষ্ট কিছু আসনের পরিসংখ্যান দিয়ে তিনি দাবি করেন, লড়াই এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে।
দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গলমহল ছিল শাসকদলের শক্ত ঘাঁটি। কিন্তু শুভেন্দুর দাবি, বর্তমান পরিস্থিতিতে সেখানে বিরোধী শিবিরের হাতে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। জনমানস পুরোপুরিভাবে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে ‘সেট’ হয়ে গিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর কথায়, সাধারণ মানুষ এখন পরিবর্তনের চূড়ান্ত মেজাজে রয়েছেন। কোনো রাখঢাক না রেখেই তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের ভবিষ্যৎ নিয়ে বড়সড় ইঙ্গিত দিয়েছেন মেদিনীপুরের এই মাটি থেকে।
শুধু মেদিনীপুরের আসন সংখ্যা নয়, দিলীপ ঘোষের ব্যক্তিগত জয়ের ব্যবধান নিয়েও শুভেন্দু একটি নির্দিষ্ট অংক দিয়েছেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, কয়েক হাজার ভোটের বিশাল ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করবেন দিলীপ ঘোষ। শুভেন্দুর এই প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাস কি কেবলই রাজনৈতিক কৌশল, নাকি মাটির তলার কোনো চোরাস্রোত তিনি আঁচ করতে পেরেছেন—তা নিয়ে এখন চায়ের দোকানে তুঙ্গে কাটাছেঁড়া।
শুভেন্দু অধিকারীর এই বক্তব্যকে ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই তৃণমূল শিবিরের পক্ষ থেকে পাল্টা তোপ দাগা হয়েছে। তবে শুভেন্দু যেভাবে পরিসংখ্যান দিয়ে নিজের জয়ী তালিকা বা ‘উইন-লিস্ট’ এর ইঙ্গিত দিয়েছেন, তাতে বিজেপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে নতুন করে উন্মাদনা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জঙ্গলমহল ও মেদিনীপুর পুনরুদ্ধারের এই লড়াই আগামী দিনে আরও তীব্র আকার ধারণ করতে চলেছে। শুভেন্দুর এই দাবির রেশ কতদূর গড়ায় এবং ভোটের বাক্সে এর প্রতিফলন কতটা ঘটে, এখন নজর থাকবে সেদিকেই।
