প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- গতকালই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নাজিরাবাদে গিয়ে একটি প্রতিবাদ মিছিল করার কথা ছিলো। কিন্তু আগেভাগেই পুলিশের পক্ষ থেকে ১৬৩ ধারা জারি করে দেওয়া হয়। যাতে শুভেন্দুবাবু বা বিজেপি এই কর্মসূচি করতে না পারে। পরবর্তীতে তারা আদালতে যায়। আর আদালত থেকে গতকালই অনুমতি এসেছে। আর তারপরেই বিজেপি বিধায়কদের নিয়ে সেই নাজিরাবাদে গিয়ে আইন মেনে এলাকা পরিদর্শন করার পর শুভেন্দুবাবু জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, আদালত থেকে তারা যেহেতু অনুমতি পেয়েছেন, তাই তারা যে মিছিল করবেন, সেখানে জনজোয়ার দেখতে পাওয়া যাবে। আর অতীতে যেমন যখনই যে কথা বলেছেন শুভেন্দু অধিকারী, তখনই যেমন তা মিলে গিয়েছে। এক্ষেত্রেও আজ ঠিক তেমনটাই হলো। তার গতকালের কথা অনুযায়ী হুবহু মিলে গেল আজকের চিত্র।
গতকাল নাজিরাবাদে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা বিজেপি বিধায়কদের নিয়ে গেলেও, তিনি মিছিলের মত কর্মসূচি করতে পারেননি। আর সেখান থেকেই শুভেন্দুবাবু জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, শুক্রবার আদালতের নির্দেশ মোতাবেক বেলা 11 টা থেকে 3 টের মধ্যে তারা এখানে মিছিল করবেন। এমনকি তখন রাজ্যে বিরোধী দলনেতা এটাও জানিয়ে দিয়েছিলেন যে সেই মিছিলে জনজোয়ার দেখতে পাবেন সকলে। ইতিমধ্যেই সেই মিছিল শুরু হয়ে গিয়েছে। আর সেই মিছিলে মানুষের যে স্বতঃস্ফূর্ততা এবং বিজেপি কর্মীদের যে ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তাতে বোঝাই যাচ্ছে যে, এই সরকারের বিদায় শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যখন বামেদের বিদায়ের ঘন্টা বেজেছিল ২০১১ এর একদম শেষ দিকেও, তৃণমূলের মিছিলে এত ভিড় ছিল না। আর এখন তৃণমূলের বিরুদ্ধে মানুষ যখন এত বিরক্ত, তারপরেও কিন্তু তারা চোখে চোখ রেখে বিজেপির মিছিলে পা মেলাচ্ছেন। তারা এই শাসনের প্রতি যে অত্যন্ত বিরক্ত হয়ে রয়েছেন, তা আড়ালে না থেকে একেবারে সরাসরি বিজেপির এই কর্মসূচিতে শামিল হয়েই বুঝিয়ে দিচ্ছেন মানুষ। স্বাভাবিকভাবেই যেখানে মানুষের মধ্যে তৃণমূলের বিরোধিতা করতে বিন্দুমাত্র ভয় নেই, সেখানে বোঝাই যাচ্ছে যে, তারা সঠিকভাবে ভোট দিতে পারলে ২০২৬ এই তৃণমূলকে বিসর্জন দেওয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত। অন্তত আজ নাজিরাবাদ কাণ্ডের প্রতিবাদে যে জনসমাগম এবং যে জনজোয়ার কলকাতার মাটিতে লক্ষ্য করা গেল, তার পরিপ্রেক্ষিতে তেমনটাই বলছেন বিরোধীরা।
