Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

শুভেন্দুর নেতৃত্বে ‘মিশন সোনার বাংলা’! প্রথম ক্যাবিনেটেই দিলীপ-নিশীথ-অগ্নিমিত্রাদের বড় চমক, কার হাতে কোন দপ্তর?

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-জল্পনা ছিলই, আজ তাতে শীলমোহর পড়ল। নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সভাপতিত্বে আয়োজিত প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক থেকেই নির্ধারিত হয়ে গেল আগামীর পথচিত্র। ‘মিশন সোনার বাংলা’র লক্ষ্যপূরণে নিজের সেনাপতিদের বেছে নিলেন মুখ্যমন্ত্রী। আজ দপ্তর বন্টনের যে তালিকা প্রকাশ্যে এসেছে, তাতে এক বড়সড় প্রশাসনিক রদবদলের ইঙ্গিত স্পষ্ট। অভিজ্ঞতার সঙ্গে তারুণ্যের মেলবন্ধন ঘটিয়ে এক শক্তিশালী মন্ত্রিসভা উপহার দিলেন শুভেন্দু অধিকারী।

রাজ্য রাজনীতির অন্যতম চাণক্য দিলীপ ঘোষের ওপর বড় ভরসা রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁকে পঞ্চায়েত ও গ্রাম উন্নয়ন এবং প্রাণিসম্পদ দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূল স্তরে সংগঠন এবং গ্রামীণ মানুষের সঙ্গে দিলীপ ঘোষের যে নিবিড় যোগাযোগ, তাকেই সরকার কাজে লাগাতে চাইছে। গ্রামোন্নয়নের চাকা ঘোরাতে দিলীপ ঘোষের অভিজ্ঞতা ‘মাস্টারস্ট্রোক’ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

তালিকায় বড় নাম নিশীথ প্রামাণিক। তাঁকে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের পাশাপাশি ক্রীড়া দপ্তরের ভার দেওয়া হয়েছে। উত্তরবঙ্গের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবিদাওয়া পূরণ এবং রাজ্যের তরুণ প্রজন্মের জন্য খেলাধুলার পরিকাঠামো উন্নত করাই হবে নিশীথের প্রধান লক্ষ্য। দিল্লির অভিজ্ঞতার পর এবার বাংলার প্রশাসনিক কাজে তাঁর ভূমিকা কী হয়, সেদিকেই নজর সবার।

পুর ও নগর উন্নয়ন দপ্তরের গুরুদায়িত্ব দেওয়া হয়েছে অগ্নিমিত্রা পালকে। একইসঙ্গে নারী ও শিশু কল্যাণ দপ্তরের দায়িত্বও সামলাবেন তিনি। শহর এলাকার আধুনিকীকরণ এবং মহিলাদের সুরক্ষা ও কল্যাণে অগ্নিমিত্রার সক্রিয়তা সরকারের ইমেজ বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে ওয়াকিবহাল মহলের ধারণা।

খাদ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন অশোক কীর্তনিয়া। সাধারণ মানুষের হেঁশেলের দুশ্চিন্তা দূর করা এবং স্বচ্ছ রেশন ব্যবস্থা বজায় রাখা তাঁর কাছে বড় চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে, জঙ্গলমহল থেকে শুরু করে উত্তরবঙ্গের আদিবাসী জনজাতির সামগ্রিক মানোন্নয়নের ভার পেয়েছেন ক্ষুদিরাম টুডু। আদিবাসী উন্নয়ন মন্ত্রী হিসেবে তাঁর নিয়োগ এক বড় সামাজিক বার্তা বলেই মনে করা হচ্ছে।

সূত্রের খবর, ক্যাবিনেট বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত কড়া ভাষায় মন্ত্রীদের জানিয়ে দিয়েছেন যে, লক্ষ্য একটাই— ‘অন্ত্যোদয়’। অর্থাৎ সমাজের শেষ সারিতে থাকা মানুষের কাছেও যেন সরকারি সুবিধা পৌঁছায়। আজকের এই দপ্তর বন্টন প্রমাণ করে দিল যে, শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে দক্ষ ব্যক্তিদের সঠিক স্থানে বসিয়েছেন।

এখন এই ‘হেভিওয়েট’ টিম বাংলাকে উন্নয়নের নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে কি না, সেটাই দেখার। তবে আজকের ঘোষণার পর রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ যে কয়েক গুণ চড়ে গিয়েছে, তা বলাই বাহুল্য।

Exit mobile version