প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২০২৬-এর মহাযুদ্ধের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ দোরগোড়ায়। তার ঠিক আগেই রাজ্যের রাজনৈতিক অলিন্দে বোম ফাটালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এদিন এক মেগা জনসভা থেকে তিনি যে ভাষায় তৃণমূল নেত্রীকে আক্রমণ করেছেন, তাতে তোলপাড় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। শুভেন্দুর সাফ কথা, “অঙ্ক কষার দরকার নেই, বিজেপির এমন ঝড় আসছে যে তৃণমূলকে বিধানসভায় খুঁজেই পাওয়া যাবে না।” এমনকি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিরোধী দলনেত্রী হওয়ার মতো আসনও পাবেন না বলে দাবি করেছেন তিনি।
২০২১-এ নন্দীগ্রামের সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারী দাবি করে আসছেন যে তিনিই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক ইনিংসের অবসান ঘটাবেন। দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের আগে তাঁর এই নতুন আক্রমণ সেই সুরকেই কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিল। শুভেন্দুর কথায়, “তৃণমূলের সরকার যাওয়া এখন সময়ের অপেক্ষা। দিদিমণি মুখ্যমন্ত্রী হওয়া তো দূরের কথা, বিধানসভায় বিরোধী আসনে বসার জন্য যে কটা বিধায়ক লাগে, সেই সংখ্যাটাও জোগাড় করতে পারবেন না।”
বিজেপির অন্দরে এই মেজাজকে ‘আত্মবিশ্বাস’ হিসেবে দেখা হলেও, রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি আসলে ভোটারদের মনস্তাত্ত্বিকভাবে প্রভাবিত করার একটি কৌশল। দ্বিতীয় দফায় রাজ্যের একগুচ্ছ হেভিওয়েট আসনে ভোট হতে চলেছে। নির্বাচন কমিশন এবং বিভিন্ন জনমত সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। শুভেন্দু দাবি করেছেন বিজেপি এবার ১৭০ থেকে ১৭৭টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যা গরিষ্ঠতা পাবে। অন্যদিকে, তৃণমূলের দাবি তারা ২১০-এর বেশি আসন ধরে রাখবে।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে ভোট শতাংশের ব্যবধান গত নির্বাচনের তুলনায় ৩-৪ শতাংশ কমে গিয়েছে। এই দফায় ১৪২টি আসনে লড়াই হতে চলেছে, যা ম্যাজিক ফিগার (১৪৮) ছোঁয়ার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শুভেন্দুর এই দাবির তীব্র সমালোচনা করেছে তৃণমূল শিবির। দলের মুখপাত্রদের দাবি, “শুভেন্দু অধিকারীর দিবাস্বপ্ন দেখছেন। ২০২১-এও তাঁরা ‘আবকি বার ২০০ পার’ স্লোগান দিয়েছিলেন, কিন্তু মানুষ তাঁদের যোগ্য জবাব দিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নই ফের তৃণমূলকে ক্ষমতায় আনবে।”
