প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-
২০২৬-এর মহাযুদ্ধের দামামা কি সময়ের আগেই বেজে গেল ভবানীপুরের অলিগলিতে? গত বৃহস্পতিবার যে কার্যালয়ে দাঁড়িয়ে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী পরিবর্তনের ডাক দিয়েছিলেন, আজ শনিবারের ভোরে সেই চক্রবেড়িয়া রোড সাক্ষী থাকল এক নজিরবিহীন তাণ্ডবের। বিজেপির অভিযোগ, রাতের অন্ধকারে সেখানে একদল দুষ্কৃতী হানা দিয়ে লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে দলীয় কার্যালয়। ছেঁড়া হয়েছে পতাকা, ফাটানো হয়েছে প্রার্থীর ছবি সংবলিত ফ্লেক্স। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এই ঘটনার পেছনে শুধুই কি নিছক ভাঙচুর, নাকি শুভেন্দুর ‘পদ্ম-অভিযানে’ ভিত নড়ে যাওয়া কোনো বিশেষ শিবিরের পরাজয় ভীতি? রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই হামলার ‘টাইমিং’ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগেই ভবানীপুর থানায় দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারী হুঙ্কার দিয়েছিলেন, বিজেপি কর্মীদের গায়ে হাত পড়লে তিনি নিজে থানায় এসে বসার ক্ষমতা রাখেন। সেই সফরের রেশ কাটতে না কাটতেই কার্যালয় ভাঙচুরের এই ঘটনা কি বিরোধী দলনেতার সেই চ্যালেঞ্জকে প্ররোচিত করার চেষ্টা? নাকি শুভেন্দুর ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা দেখে রাতের অন্ধকারে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই শুরু করেছে কোনো পক্ষ?
গণতন্ত্রের ওপর কি কালো ছায়া?
চক্রবেড়িয়া রোড সংবলিত এই কার্যালয়টি বিজেপির নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, দিনের আলোয় রাজনৈতিক ভাবে মোকাবিলা করতে না পেরে রাতের অন্ধকারকে বেছে নিচ্ছে ‘অদৃশ্য’ হাত। কার্যালয়ের সামনে পড়ে থাকা ছেঁড়া ফেস্টুন আর ভাঙা আসবাবপত্র যেন এক অদৃশ্য রাজনৈতিক অসহিষ্ণুতারই প্রমাণ দিচ্ছে। যদিও বিজেপি নেতৃত্ব এই ঘটনার আঙুল তুলছে শাসকদলের মদতপুষ্ট দুষ্কৃতীদের দিকে, তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, এই ঘটনা আসলে ভবানীপুরের সাধারণ মানুষের কাছে একটি ভিন্ন বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।
শুভেন্দু অধিকারীর সক্রিয়তায় যে এলাকার রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যাচ্ছে, তা আজকের এই ‘রাতের আতঙ্ক’ থেকেই স্পষ্ট। শুভেন্দু ইতিমধ্যেই স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি এই ধরনের ‘কাপুরু ষোচিত’ হামলার সামনে মাথানত করবেন না।চক্রবেড়িয়ার এই ভাঙচুর কি তবে ২০২৬-এর ভবানীপুরে বড় কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত? রাতের অন্ধকারে যারা হামলা চালাচ্ছে, তারা কি আসলে দিনের আলোর ‘বিজেপি ঢেউ’কে ভয় পেতে শুরু করেছে? উত্তর খুঁজছে তিলোত্তমার মানুষ।
