প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-পরিবর্তিত বাংলায় তৃণমূলের দীর্ঘ জমানার তোষণ আর সিন্ডিকেট রাজের অবসান ঘটিয়ে এবার প্রকৃত উন্নয়ন ও শিল্পায়নের লক্ষ্যে এগোচ্ছে রাজ্যের নতুন বিজেপি সরকার। রাজ্যের ক্ষমতায় এখন ভারতীয় জনতা পার্টি আসীন। আগামী ২২ জুন বিধানসভায় পেশ হতে চলেছে এই সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ রাজ্য বাজেট। তার ঠিক আগে, বুধবার দেশের রাজধানীতে এক ম্যারাথন বৈঠকে অংশ নিলেন রাজ্যের নবনিযুক্ত অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। রাজ্যের আর্থিক সংকট দূর করতে এবং কেন্দ্রীয় সহযোগিতার হাত শক্ত করতে এদিন তিনি নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান এবং দেশের কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বৈঠক সারেন।
বুধবার সকালেই যোজনা ভবনে নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান তথা বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অশোক লাহিড়ীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। সূত্রের খবর, প্রাক্তন শাসক দল তৃণমূলের রেখে যাওয়া বিপুল ঋণের বোঝা এবং দেউলিয়া প্রায় অর্থনীতিকে কীভাবে পুনরায় চাঙ্গা করা যায়, তা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয় দুজনের মধ্যে। সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি করের বোঝা না চাপিয়েও কীভাবে রাজ্যের নিজস্ব রাজস্ব (Revenue) বৃদ্ধি করা সম্ভব এবং পরিকাঠামো উন্নয়নে কেন্দ্রীয় নীতিকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, তার একটি রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে এই বৈঠকে। নীতি আয়োগের বৈঠকের পর দুপুর ২টোয় নর্থ ব্লকে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণের সঙ্গে হাই-প্রোফাইল বৈঠকে বসতে পারেন স্বপন দাশগুপ্ত। সূত্রের খবর, পূর্বতন তৃণমূল সরকারের জমানায় কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকার যে নয়ছয় এবং হিসাব না দেওয়ার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, তা যে বর্তমান বিজেপি সরকার সম্পূর্ণ বন্ধ করেছে, সেই বার্তা দিল্লির দরবারে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্যের বকেয়া জিএসটি (GST) প্রাপ্যতা দ্রুত মিটিয়ে দেওয়া এবং উত্তরবঙ্গের চা-বলয়সহ রাজ্যের পিছিয়ে পড়া অঞ্চলগুলির জন্য একটি বিশেষ আর্থিক প্যাকেজের দাবিও কেন্দ্রের কাছে জোরালোভাবে পেশ করেছেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী।
গত ১ জুন পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের অর্থ দপ্তরের মতো গুরুদায়িত্ব তুলে দিয়েছেন স্বপন দাশগুপ্তের কাঁধে। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কোমর বেঁধে ময়দানে নেমেছেন তিনি। দিল্লি আসার আগে উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে চা বাগান মালিক, ব্যবসায়ী এবং বিভিন্ন অংশীজনদের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনা সেরেছেন। অর্থমন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা, “বাংলাকে ভিক্ষুক বানিয়ে রাখার দিন শেষ। আমাদের মূল লক্ষ্য পশ্চিমবঙ্গকে একটি আন্তর্জাতিক মানের বিনিয়োগ-বান্ধব রাজ্য হিসেবে গড়ে তোলা, যেখানে যুব সমাজের জন্য প্রকৃত কর্মসংস্থান তৈরি হবে।”
আগামী ১৮ জুন থেকে শুরু হচ্ছে রাজ্য বিধানসভার বাজেট অধিবেশন। আর ২২ জুন স্বপন দাশগুপ্তের হাত ধরে পেশ হবে নতুন দিশার বাজেট। রাজনৈতিক মহলের মতে, দিল্লির এই সফল মেগা বৈঠক প্রমাণ করে দিল যে, ডবল ইঞ্জিন সরকারের সমন্বয়ে এবার সত্যিই বাংলার অর্থনৈতিক পুনরুত্থান সময়ের অপেক্ষা মাত্র।
