প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-খাস কলকাতায় যা ঘটল, তা এককথায় তোলপাড় ফেলে দেওয়ার মতো। যাঁর বিরুদ্ধে টলিউডের স্টুডিওপাড়ায় ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সমান্তরাল শাসন চালানোর অভিযোগ উঠছিল বারবার, আজ তাঁর বিরুদ্ধেই বড়সড় আইনি পদক্ষেপ নিল কলকাতা পুলিশ। প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই তথা তৃণমূল নেতা স্বরূপ বিশ্বাসকে তোলাবাজি, শ্লীলতাহানি এবং খুনের চেষ্টার মতো মারাত্মক সব অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ৪ জুন ২০২৬, বৃহস্পতিবার রাতে নিউ আলিপুর থানার পুলিশ যখন তাঁকে সাহাপুর কলোনি থেকে আটক করে, তখন টলিপাড়ার অলিন্দে বড়সড় কম্পন তৈরি হয়েছে। অভিযোগের তির অত্যন্ত গুরুতর, কিন্তু এই গ্রেপ্তারের পর পর্দার পিছনের কোন অন্ধকার দিকগুলো সশব্দে সামনে চলে এল?
সিমরান পাল নামে এক মেকআপ আর্টিস্টের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশ এই পদক্ষেপ নিয়েছে। ওই নারীর অভিযোগ, বিগত দুই বছর ধরে তাঁকে টলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে কোনো কাজ করতে দেওয়া হয়নি। কাজ চাইতে গেলে তাঁর কাছ থেকে অবৈধভাবে টাকা দাবি করা হয় এবং চরম লাঞ্ছনা ও শ্লীলতাহানি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।ধৃত তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) ২০২৩-এর বিভিন্ন ধারার পাশাপাশি ২৫/২৭ অস্ত্র আইনেও (Arms Act) মামলা রুজু করেছে পুলিশ।
স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেপ্তারের খবর চাউর হতেই নিউ আলিপুর থানার বাইরে মানুষের ঢল নামে। সেখানে ‘চোর চোর’ স্লোগানে সরব হন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষ বা টেকনিশিয়ানদের একাংশ যাঁদের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ ছিলেন, গতকাল রাতে নিউ আলিপুর থানা চত্বরে তাঁদেরই হাতে আস্ত ডিম নিয়ে নেতার গাড়ি লক্ষ্য করে বিক্ষোভ দেখাতে দেখা যায়। রাজনৈতিক মহলের মতে, ক্ষমতার দম্ভ যে চিরস্থায়ী নয়, কাল রাতের এই জনরোষ তার বড় প্রমাণ।
টলিপাড়ার বিরোধী শিবিরের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, এই স্বরূপ বিশ্বাস ও তাঁর অনুগামীরা একচ্ছত্র দাপট দেখিয়ে টলিউডে একটা সমান্তরাল রাজত্ব চালাচ্ছিলেন। নিজেদের মর্জিমতো কাউকে বয়কট বা ‘ব্যান’ করা ছিল তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা মূল অভিযোগ। টেকনিশিয়ান ও কলাকুশলীদের একাংশের দাবি, এই আইনি পদক্ষেপের পর স্টুডিও পাড়ার সাধারণ কর্মীরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবেন। কথিত স্বৈরাচারী মানসিকতার গালে এটি একটি বড় চপেটাঘাত।
বিরোধী রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মহলের প্রশ্ন— এতদিন যে দাপটের জেরে টলিপাড়ার গরিব মেকআপ আর্টিস্ট বা টেকনিশিয়ানদের কাজ হারানোর অভিযোগ উঠছিল, এই গ্রেপ্তারের পর তার কি এবার নিস্পক্ষ তদন্ত হবে? রাজনৈতিক শিবিরের একাংশের দাবি— পুলিশ এতদিন কেন চুপ ছিল? কেন একজন মহিলার দেওয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়ার পর, দীর্ঘ দুই বছর লড়াই করার পর পুলিশকে আজ জাগতে হলো?তৃণমূলের অন্দরেও এখন অস্বস্তি— এই ‘সিন্ডিকেট রাজ’ ও ‘তোলাবাজি’র যে কথিত অভিযোগ সামনে আসছে, তার দায় কি দল নেবে? নাকি ভাইয়ের এই আইনি কেলেঙ্কারি থেকে নিজেকে সম্পূর্ণ দূরে রাখবেন প্রাক্তন মন্ত্রীমশাই? জনতা কিন্তু কড়া নজর রাখছে। আইনি লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কী উঠে আসে, জবাব তো মিলবেই।
