প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট- গতকাল তৃণমূলের পক্ষ থেকে রাজ্যসভার চার আসনে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে। যেখানে নাম রয়েছে রাজ্যের প্রাক্তন ডিজিপি রাজীব কুমারের। এতদিন এই রাজীব কুমার সম্পর্কে বিভিন্ন অভিযোগ ছিলো বিরোধীদের। বিরোধীরা দাবি করতেন, এই রাজীব কুমার হচ্ছেন তৃণমূলের অনেক গোপন খবর জানেন। এমনকি তিনি যখন ডিজিপি ছিলেন, তখন কি করে বিরোধীদের উপর পর অত্যাচার করতে হয়, কি করে মিথ্যা মামলা দিতে হয়, তার সবকিছুই তিনি করতেন। এমনকি তাকে বাঁচানোর জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একসময় ধর্ণা পর্যন্ত দিয়েছিলেন। ফলে এই রাজীব কুমারের সঙ্গে যে তৃণমূলের একটা গোপন অভিসন্ধি রয়েছে, সেই সম্পর্কে বিরোধীদের মধ্যে এতদিন চর্চা হচ্ছিল। আর গতকাল সেই প্রাক্তন ডিজিপিকে তৃণমূলের পক্ষ থেকে রাজ্যসভার প্রার্থী করা হতেই বিরোধীদের মধ্যে আর কোনো সংশয় রইল না। এখন তারা একটাই কথা বলছেন যে, তারা এতদিন এই রাজীব কুমারকে নিয়ে তাহলে যে সমস্ত অভিযোগ করতেন, সেটাই তো বাস্তব হয়ে গেল। আর সেটাতেই তো সীলমোহর দিয়ে দিল একেবারে তৃণমূল কংগ্রেস।
ইতিমধ্যেই ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যসভার নির্বাচন রয়েছে রাজ্য রাজনীতি। গতকাল তৃণমূলের পক্ষ থেকে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হয়েছে। সকলেই নতুন মুখ। আর সব থেকে বেশি যে নাম নিয়ে চর্চা চলছে, তা হচ্ছে, রাজীব কুমার। এতদিন বিরোধীরা বলতেন, রাজীব কুমার ডিজিপি থাকলেও তিনি তৃণমূলের দলদাস হয়েই কাজ করছেন। আর সেই প্রাক্তন ডিজিপিকেই এবার তৃণমূল রাজ্যসভার আসনে প্রার্থী করে দিয়ে বুঝিয়ে দিলো যে, এই রাজীব কুমারের সঙ্গে তাদের ঠিক কতটা সখ্যতা রয়েছে। পাশাপাশি বিরোধীরা এতদিন এই রাজীব কুমারকে বাঁচানোর জন্য মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের যে তৎপরতা, সেই বিষয় নিয়ে যেভাবে সোচ্চার হতেন। আর বিরোধীদের সেই বক্তব্যের মধ্যেও এবার যথেষ্ট যুক্তি খুঁজে পাচ্ছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। আর এই পরিস্থিতিতে এবার সেই রাজীব কুমারকে রাজ্যসভার আসনে তৃণমূলের প্রার্থী করা নিয়ে হাটে হাড়ি ভাঙলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।
এদিন রাজীব কুমারকে প্রার্থী করা প্রসঙ্গে সুকান্তবাবুকে প্রশ্ন করা হয়। আর সেই ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে তিনি বলেন, “যিনি বাঙালি নন, তাকে রাজ্যসভায় পাঠানোর কথা তৃণমূল কংগ্রেস যখন বলছে, তখন এটা স্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে যে, রাজীব কুমার সারদা কাণ্ডে লাল ডায়েরি এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে যে ভূমিকা পালন করেছে, তারই ঋণ শোধ করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কারণ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানেন, রাজীব কুমার মুখ খুললেই বিপদ।”
