Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

মহা-ধস কালীঘাটে! দিদির হুঁশিয়ারি ফুঁ দিয়ে উড়িয়ে বিধানসভায় পা বাড়াচ্ছেন তাপস, এবার হাতছাড়া আস্ত জেলাই?

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-২১ জুলাইয়ের শহীদ দিবসের মঞ্চ সাজানোর আগেই কি কার্যত ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে ঘাসফুল শিবিরের অন্দরমহল? ‘কালীঘাট তৃণমূল’-এর একের পর এক উইকেট পতন যেন কোনোভাবেই থামানো যাচ্ছে না। মদন মিত্র, কোয়েল মল্লিক, মণীশ গুপ্তর পর এবার জোড়াফুল শিবিরের জন্য নেমে এলো আরও এক বিধ্বংসী আঘাত! খাস উত্তর ২৪ পরগনার রাজনীতির অন্যতম চাণক্য তথা রাজারহাট-নিউটাউনের প্রাক্তন বিধায়ক তাপস চট্টোপাধ্যায় এবার দিদির হাত ছেড়ে বিদ্রোহী ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দিতে চলেছেন। তীব্র জল্পনা, আজ শুক্রবারই দুপুর ১টা নাগাদ বিধানসভায় গিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে পারেন।২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে উত্তর ২৪ পরগনায় তৃণমূলের ভরাডুবির পর থেকেই ক্ষোভের আগুন জ্বলছিল। সম্প্রতি বারাসত সাংগঠনিক জেলা সভাপতির পদ থেকে সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের ইস্তফার পর সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তাপস চট্টোপাধ্যায়ের কাঁধে। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষিত সেই জেলা সভাপতিই এবার সরাসরি বিদ্রোহ ঘোষণা করতে চলেছেন বলে খবর!রাজনৈতিক মহলে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তোলপাড় শুরু হওয়ার পেছনে রয়েছে আরও বড় কিছু কারণ।

গতকালই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কড়া বার্তা দিয়ে বলেছিলেন, “যাঁরা দল ছাড়তে চান, তাঁরা ২১ জুলাইয়ের আগেই লগেজ গুছিয়ে চলে যান”। সেই হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই তাপসের এই পদক্ষেপ কালীঘাট শিবিরের জন্য চরম অস্বস্তির। উত্তর ২৪ পরগনার রাজনীতিতে তাপস চট্টোপাধ্যায়ের নিজস্ব এক বিশাল জনভিত্তি রয়েছে। তিনি দল ছাড়লে শুধু রাজারহাট-নিউটাউন বা বারাসত নয়, গোটা জেলার বড় অংশের সংগঠনে ধস নামবে, যা ঋতব্রত-তৃণমূলকে আরও শক্তিশালী করবে। সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে বিজেপি প্রার্থীর কাছে মাত্র ৩১৬ ভোটে হেরেছিলেন তাপস। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে গণনায় কারচুপির অভিযোগ তুলে আদালতের দ্বারস্থ হলেও তাপস কিন্তু দলের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত বিদ্রোহী শিবিরের দিকেই পা বাড়ালেন।

কাকতালীয়ভাবে, এই বিষয়ে সংবাদমাধ্যমের তরফে তাপস চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি খবরের সত্যতা সরাসরি স্বীকার না করলেও, বিষয়টিকে ‘ভুল খবর’ বলে উড়িয়েও দেননি। তাঁর সংক্ষিপ্ত মন্তব্য, “সব এখনই বলছি না, সময় এলেই জানতে পারবেন”। এখন দেখার, বিধানসভার অলিন্দে পা রেখে তাপস বাবু আজ বাংলায় কোনো নতুন রাজনৈতিক ভূমিকম্পের জন্ম দেন কিনা।

Exit mobile version