Site icon প্রিয় বন্ধু মিডিয়া

তারাপীঠে ভোররাতে মহাবিপর্যয়! শ্রাবণের শেষ সোমবারে জতুগৃহ হোটেল, ঘুমের মধ্যেই মর্মান্তিক মৃত্যু অন্তত ৬ পুণ্যার্থীর!

 

 

প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-শ্রাবণ মাসের শেষ সোমবারের পুণ্যলগ্নে বীরভূমের বিখ্যাত শক্তিপীঠ তারাপীঠে ঘটে গেল এক শিউরে ওঠার মতো অত্যন্ত মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। সোমবার ভোররাত আনুমানিক ৪টে নাগাদ তারাপীঠ থানা থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে পুকুর পাড়ে অবস্থিত হোটেল ‘বিদেশিনী’-র একতলায় আচমকাই বিধ্বংসী আগুন লেগে যায়। মুহূর্তের মধ্যে সেই আগুন ও বিষাক্ত ধোঁয়া গোটা পাঁচতলা হোটেলে ছড়িয়ে পড়ে। এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কমপক্ষে ৬ জন পুণ্যার্থীর দগ্ধ ও দমবন্ধ হয়ে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে প্রশাসন।

শ্রাবণের শেষ সোমবারে মা তারার চরণে জল ঢালতে ও পুজো দিতে রবিবার রাত থেকেই দূর-দূরান্তের শত শত পুণ্যার্থী এসে ভিড় জমিয়েছিলেন তারাপীঠের হোটেলগুলিতে। হোটেল ‘বিদেশিনী’-ও পুণ্যার্থীতে সম্পূর্ণ ঠাসা ছিল। ভোর ৪টে নাগাদ যখন অগ্নিকাণ্ডটি ঘটে, তখন হোটেলের প্রায় সমস্ত আবাসিকই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন। হোটেলের একতলার রিসেপশন বা একতলার অংশে আগুন লাগার পর তীব্র বিষাক্ত কালো ধোঁয়া পাঁচতলা পর্যন্ত দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ঘুমের মধ্যেই ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে অনেকে অচেতন হয়ে পড়েন। হোটেলটি থানার অত্যন্ত কাছে হওয়ায় তারাপীঠ ও রামপুরহাট থানার পুলিশ এবং দমকল বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হলেও ততক্ষণে হোটেলের ব্যাপক ক্ষতি হয়ে যায়। ধোঁয়ায় গুরুতর অসুস্থ এবং অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে বহু মানুষকে দ্রুত রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার বাসিন্দা এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, ঘরের দরজা ভেঙে পুলিশ তাদের উদ্ধার করার আগে প্রায় ৪৫ মিনিট তাঁরা সপরিবারে বাথরুমের ফাঁকা জায়গা দিয়ে শ্বাস নেওয়ার চেষ্টা করে আটকে ছিলেন।

হোটেলের মালিক কল্যাণ পালের দাবি, ভোররাতে আগুন দেখতে পেয়েই কর্তব্যরত কর্মীরা অগ্নিনির্বাপণ যন্ত্র ব্যবহার করেন এবং মেইন পাওয়ার লাইনের তার খুলে দেন। কিন্তু ভেতরের ফাইবার সামগ্রীতে আগুন ধরে যাওয়ায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। দমকল ও পুলিশের প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, শর্ট সার্কিট থেকেই এই ভয়াবহ আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। উৎসবের দিনে এত বড় একটি ট্র্যাজেডি কীভাবে ঘটল এবং হোটেলে পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে জেলা পুলিশ ও দমকল বিভাগ যৌথ তদন্ত শুরু করেছে।

Exit mobile version