প্রিয়বন্ধু মিডিয়া রিপোর্ট-কলকাতার তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদামঘর ধসে পড়ার ঘটনার রেশ এবার পৌঁছাল থানায়। এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর কলকাতা পুরসভার প্রাক্তন মেয়র তথা প্রাক্তন নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ (ববি) হাকিমের বিরুদ্ধে তারাতলা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলো। ভারতীয় জনতা মজদুর সেলের পক্ষ থেকে শনিবার এই নালিশ জানানো হয়েছে। অভিযোগপত্রে প্রাক্তন মেয়রের পাশাপাশি তৃণমূলের দুই প্রাক্তন কাউন্সিলর আনোয়ার খান এবং সামস ইকবালের নামও রয়েছে। ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ফিরহাদ হাকিমসহ বাকিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারির দাবি তুলেছে বিজেপি।
বিজেপি মজদুর সেলের দাবি, ট্রান্সপোর্ট ডিপো রোডের ধসে পড়া ওই বহুতল গুদামঘরটির বিল্ডিং প্ল্যান বা নকশা অনুমোদনের ক্ষেত্রে মারাত্মক কারচুপি ও আর্থিক দুর্নীতি হয়েছে। প্রশাসনের একাংশের মদতেই নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এই বিপজ্জনক নির্মাণের ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল। আর এই বেআইনি যোগসূত্রের পেছনে তৎকালীন পুরপ্রধানদের প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
গত বুধবার (২৪ জুন) তারাতলায় নির্মীয়মাণ ওই বিশাল গুদামঘরটির ছাদ হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে এখনও পর্যন্ত ১৬ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে, এবং বহু মানুষ আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন। ঘটনার তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই পুলিশ ও বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) তৎপরতা বাড়িয়েছে। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছেন ফিরহাদ হাকিমের প্রাক্তন ওএসডি (OSD) কালীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়। ‘কালী’ নামেই পরিচিত এই আধিকারিকের গ্রেপ্তারের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়ায়।
এর আগে বিধানসভায় স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী একটি নথি তুলে দাবি করেন যে, ধসে পড়া গুদামঘরের নকশাটিতে প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিমের সই রয়েছে। তিনি তৎকালীন সরকারের আমলে হওয়া এই বেআইনি কাজের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দেন। এমনকি তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষও মন্তব্য করেন যে, দোষ প্রমাণিত হলে কাউকেই রেয়াত করা উচিত নয়।
এদিকে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফিরহাদ হাকিম। সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, “মেয়র কখনও কোনো বিল্ডিং প্ল্যান সই করেন না, বা এর খুঁটিনাটিতে যান না। কোনো মেয়রই তা করেন না।” তাঁর দাবি, ওই গুদামঘরটি সম্পূর্ণ বেআইনি ছিল না, তবে সেখানে নজরদারির অভাব ছিল। থানায় এই লিখিত অভিযোগ জমা পড়ার পর তারাতলা থানার পুলিশ ঘটনার তদন্ত আরও জোরদার করেছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, ওএসডি-র গ্রেপ্তারের পর সরাসরি প্রাক্তন মেয়রের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জমা পড়ায় ববি হাকিমের ওপর আইনি ও রাজনৈতিক চাপ আরও বহুগুণ বেড়ে গেল।
